দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর। কিন্তু দুর্নীতির ভাগবাটোয়ারায় চেয়ারম্যানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে হয়ে যান ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা। যেটি ২০১৪ সালে সরকারি কর্মচারী চাকরিবিধি বিধি বহির্ভূত। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের ওই চেয়ারে বসে নানা পথে কামিয়েছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। নামে বেনামে করেছেন সম্পদ অর্জন। এদিকে পটপরির্তনের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগলেও বির্তকিত এই কর্মকর্তা রয়েছেন বহাল তবিয়তে। অতীতের অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এখনো কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তার বিরুদ্ধে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উচিং মং মূলত কম্পিউটার অপারেটর পদের একজন কর্মচারী। প্রশাসনিক কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ার পর তিনি ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি থেকে ভারপ্রাপ্ত হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু তিনি ভারপ্রাপ্ত না লিখে ‘প্রশাসনিক কর্মকর্তা’ লিখে আসছেন। এমনকি পার্বত্য জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামের তালিকায়ও ভারপ্রাপ্ত লেখেননি তিনি।
ফ্যাসিবাদ সরকারের নিয়োজিত তৎসময়ের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লার সাথে যোগসাজসে বিভিন্ন ধরণের অনিয়ম দুর্নীতে জড়িয়ে পড়েন এবং দাপ্তরিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নাশকতা কর্মে জড়িত সংগঠনের কাছে প্রেরণ করেন এমনটি অভিযোগ পরিষদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তার। একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এই প্রতিবেদককে জানান, উচিং মং একসময় পুরো দপ্তরে ভীতি সঞ্চার করে পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জিম্মি করে রাখতেন। তার অসৌজন্যমূলক আচরণে অতিষ্ট হয়ে অনেক কর্মচারী চাকরি মেয়াদ পরিপূর্ণের পূর্বে অবসরে গেছেন। তারা আরো জানান, অতীতে বাঙ্গালীতের বঞ্চিত করে পরিষদের ন্যস্ত বিভাগগুলোতে অদক্ষ কর্মচারী পদায়ন করে বিভাগীয় কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা সৃষ্টি করেছেন তিনি।
তথ্যনুসন্ধানে জানা গেছে, উচিং মং জেলা পরিষদের বিভিন্ন স্থাপনা ও টোল পয়েন্টসহ বিভিন্ন ইজারা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী ইজারাদারদের জিম্মি করে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করে অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করার অভিযোগ রয়েছে। ইজারা দরপত্রে প্রাপ্ত সিডিউল পরবর্তন করে মোটা অংকের অর্থ লুটপাটপাটও করেছেন তিনি। এছাড়া যোগসাজসে বিভিন্ন ইজারাদারের সাথে অংশীদার ব্যবসায় জড়িয়ে। উচিংমং এর অনৈতিক কর্মকাণ্ড দূর্নীতি অসৌজন্যমূলক আচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশ হলেও বিদায়ী চেয়ারম্যানের আর্শিবাদে রেহাই পেয়েছেন। আর ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর ক্যশৈহ্লা আত্মগোপনে চলে গেলেও উচিংমং এখনো ক্যশৈহ্লার কাজকর্মে সহযোগিতা করেন এমনটি খবর চাউর রয়েছে পরিষদে। অভিযোগের বিষয়ে উচিং মং এর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই জানান, অতীতের বির্তক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে পরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনেকে অনিয়ম, দুর্নীতির শাস্তি পাবেন আবার কাউকে নিরাপত্তার স্বার্থে কর্মস্থল বদলির কথা ভাবা হচ্ছে।
এফএইচ/