দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজীপুরের নতুন বাজার এলাকায় দ্রুতগতির তাকওয়া (মিনি বাস) পরিবহনের চাপায় অটোরিকশা চালক লিটন মিয়া (৩৫)-কে হত্যার ঘটনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরা।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা তারা মহাসড়কের নতুন বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। পরে সড়কের দুই পাশে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হলে দুর্ভোগে সৃষ্টি হয়। এতে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ে যাত্রী, চালক ও সকালে কর্মস্থলে যাওয়া আশপাশের পোশাক শ্রমিকেরা।
মহাসড়কে অটোরিকশা রেখে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন অটোরিকশা চালকেরা। অনেক যাত্রী যানবাহন থেকে নেমে হেঁটেই গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। পবিত্র রমজানের শুরুতেই সড়ক অবরোধের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন গন্তব্যের লোকজন।
এ সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচল করে গাজীপুর জজ আদালতের আইনজীবী ইসমাইল হোসেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাকওয়া পরিবহনের বাসগুলো সড়কে বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। শুনেছি গতকাল রাতে এক অটোরিকশা চালককে তাকওয়া পরিবহন থেকে ধাক্কা দিয়ে সড়কে ফেলে চাপা দিয়ে মেরে ফেলেছে।
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা এলাকার এক পোশাক কারখানার কর্মকর্তা তাহাজ্জদ হোসেন বলেন, এটা অন্যভাবেও সমাধান করতে পারত শ্রমিকেরা। বারবার দেখছি শ্রমিকদের সঙ্গে কিছু একটা হলেই তারা জনগণকে জিম্মি করে সড়ক বন্ধ করে দেয়। এতে রোজার মধ্যে মানুষের কষ্ট হচ্ছে। এটা মগের মুল্লুক, কিছু হলেই সড়ক অবরোধ।
ক্ষুব্ধ কয়েকজন যাত্রী বলেন, ঘর থেকে বের হলেই মাথায় টেনশন থাকে সড়কের কোথায় যেন অবরোধ শুরু হয়ে গেল। প্রতিদিনই কোনো না কোনো স্থানে কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহাসড়ক অবেরাধের ঘটনা ঘটছে। যানবাহনে কোথাও যাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে তো কোনো আন্দোলন হতে পারে না। এ ধরনের আন্দোলন তুলে নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা প্রশাসনের কোনো তৎপরতা নেই। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা অটোরিকশা চালকেরা সড়ক অবেরাধ করে রেখেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল লতিফ বলেন, সোমবার (৩ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমি মহাসড়কের পাশেই নতুন বাজারে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তাকওয়া পরিবহনের একটি বাস থেকে অটোরিকশা চালক লিটন মিয়াকে বাসেই হাত ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করে নতুন বাজার এলাকায় ফেলে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ চালক জনিকে আটকসহ তাকওয়া (মিনি বাস) পরিবহন জব্দ করে।
অটোরিকশাচালক হাসমত আলী এবং দুলাল মিয়াসহ অন্যান্যরা অভিযোগ করেন, অটোরিকশা চালক লিটন মিয়াকে পরিকল্পিতভাবে বাসেই হাত ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়েছে। তবে দাবি করেন এ সড়ক দিয়ে তাকওয়া পরিবহন চালাচল করতে পারবে না।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (অপারেশন) নয়ন কর বলেন, বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল অটোরিকশা চালককে হত্যার ঘটনায় হত্যা মামলা রুজু করতে হবে। পরে তাদেরকে হত্যা মামলা রুজুর কাগজ দেখালে বেলা সাড়ে ১১টায় তারা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রসঙ্গত, অটোরিকশা চালক লিটন মিয়া নেত্রকোনার মদন উপজেলার শিবভাষা গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে। সে স্ত্রীকে নিয়ে মেম্বারবাড়ী (শিরিরচালা) এলাকার আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থেকে পাঁচ বছর ধরে অটোরিকশা চালায়। তার স্ত্রী স্থানীয় বাঘের বাজার এলাকায় মন্ডল গার্মেন্টস পোশাক কারখানায় চাকরি করে। গতকাল মহাসড়কের মাস্টার বাড়ি এলাকায় সড়কের পাশে লিটনের অটোরিকশা পার্কিং করা ছিল। তাকওয়া পরিবহন তার রিকশার লুকিং গ্লাস ভেঙে ফেলায় ওই পরিবহনের শ্রমিকদের সঙ্গে তার তর্ক হলে অটো চালককে তাকওয়া পরিবহনে তুলে নেয়। পরে তার হাতে পায়ের রগ কেটে মহাসড়কের নতুন বাজার এলাকায় ফেলে দেয়।
আরএ