দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চৌরঙ্গী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এক বিএনপি নেতার ভাই শেখ রাসেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার সম্পর্কে জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়ে সোস্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছেন। এ বক্তব্য নিয়ে অলিগলি, পথঘাট, চায়ের দোকানসহ সবখানে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। তবে বক্তব্য দিয়ে ভাইরাল হওয়া শেখ রাসেল বিএনপির কোনো পদে নেই। বিএনপির সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি দপ্তরবিহীন একজন সরকারি কর্মকর্তা ও দলের কেউ নয় বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি।
শনিবার (১ মার্চ) রাতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন সরকারের সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জেলা বিএনপি জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কুমারখালীর চৌরঙ্গী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শেখ রাসেল নামক একজন ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার সম্পর্কে একটি মন্তব্য করেন। তার ১ মিনিট ২২ সেকেন্ডের বক্তব্যটি বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি যে- বক্তব্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া শেখ রাসেল বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক পদে কর্মরত। এছাড়া তিনি ডিজি মহোদয়ের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কারণে বর্তমানে দপ্তর বিহীন অবস্থায় আছেন। আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারীদ্বয় নিশ্চিত করছি যে- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে শেখ রাসেলের কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা নেই।
জেলা বিএনপি আরও জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শেখ রাসেলের বক্তব্য বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির নাম সম্পৃক্ত করে বক্তব্য দিয়ে সংবাদ প্রচার করায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় আমরা কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এছাড়া পাশাপাশি উক্ত ব্যক্তিকে অনাহুতভাবে দলের ব্যানার ব্যবহার করে অনাকাঙ্খিত দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দান থেকে বিরত থকতে বলা হইল। সেই সঙ্গে জানাচ্ছি যে- তার বক্তব্যের দায়ভার তাকেই নিতে হবে।
জানা গেছে, শেখ রাসেল কুমারখালী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও চৌরঙ্গী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম মিলনের ভাই। তিনি ময়মনসিংহে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক। এই বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠানে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শেখ রাসেল। তিনি বক্তব্যে বলেছেন, কে কী করেছে, কে আওয়ামী লীগ করেছে, সেটা না। সবাই আমাদের মানুষ। সবাই চৌরঙ্গীর মানুষ। এদের পুলিশি অ্যারেস্ট করতে হলে আমাদের কাছে অনুমতি নিয়ে করতে হবে। এর বাইরে যদি একটা মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়, আমরা সবাই মিলে থানা ঘেরাও করবো। কিডা কোন দল করেছে এটা দেখার বিষয় না। বক্তব্যটি সেসময় ফেসবুকে লাইভ করেন কেউ কেউ। এরপর ওই দিন রাতেই এই সরকারি কর্মকর্তার ১ মিনিট ২২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
এ প্রসঙ্গে শেখ রাসেল বলেন, বক্তব্যটার মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছি কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়।
এমন বক্তব্য সমীচীন নয় বলেও মন্তব্য করেছেন কুমারখালী থানার ওসি মো. সোলায়মান শেখ। তিনি বলেন, বক্তব্যদানে দাঁয়িত্বশীলদের আরও সচেতন হতে হবে।
আরএ