দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইটালিয়ান নারী ও পুরুষ পৃথিবীর কাছে অন্যরকম দৃষ্টান্ত হয়ে বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতির সঙ্গে মিশে গিয়েছেন। দুঃখ ও কষ্টে থাকা বিবর্ণ মানুষের কাছে থেকেছেন রঙিন অভিভাবক হয়ে। বাংলাদেশের এই ভালবাসা তাদেরকে ইটালির সুখী জীবনকে ভুলিয়ে দিয়ে দায়বোধ বাড়িয়ে নির্মাণ করেছেন খাঁটি বাঙালি রূপে। তাইতো ইটালির সম্ভ্রান্ত দুই পরিবারের ছেলে ভিনসেনজো ফালকনে আরেক সম্ভান্ত পরিবারের মেয়ে গ্রাজিয়েল্লা মেলানো লাওরাকে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন দিয়েছেন সম্মানসূচক নাগরিক।
সাতক্ষীরার সাবেক জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, যারা মানুষের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করে তারা অবশ্যই মহান। ভিনসেনজো ফালকনে ও গ্রাজিয়েল্লা মেলানো লাওরা দুই বন্ধু কিন্তু মানবতায় নিবেদিত একপ্রাণ ও এক অসাধারণ দম্পতি। তাদের নাগরিকত্ব প্রদান বাংলাদেশকে নয় বরং মানবতাকে সম্মানিত করেছে। তারা সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষের জন্য কী করেননি! অসংখ্য মানসম্মত স্কুল, হাসপাতাল-স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র, দরিদ্রদের আশ্রয় আশ্রম, কর্মসংস্থান, দরিদ্রদের সুপেয় পানির ব্যবস্থা আরও অনেক অনেক কিছু করেছেন। তাদের পঞ্চাশ বছর বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে জানাই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
পঞ্চাশ বছর আগে ইটালিয়ান দুই নারী পুরুষ এসেছিলেন ধর্মপ্রচারে পরে বাংলাদেশের মানুষের প্রেমে পড়ে নেমে গেলেন মানবতার কাজে। আট সহস্রাধিক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে অর্ধশত বছর আগে বাংলাদেশে এসেছিলেন ইটালিয়ান তরতাজা ত্রিশের তারুণ্য। একজনের নাম ভিনসেনজো ফালকনে আরেক জন গ্রাজিয়েল্লা মেলানো লাওরা। ২০২৫ এর ফেব্রুয়ারি শেষ সপ্তাহে তাই তাদের দুইজনের বাংলাদেশে আগমনের গোল্ডেন জুবলি উদযাপন করা হয়েছে।
সাতক্ষীরার সদর তালা উপজেলা সীমান্তের গোপিনাথপুরের ঋশিল্পীপল্লী দুই মহৎপ্রাণকে বরণে (গতকাল মঙ্গলবার) থেকে সেজেছে অন্যরুপে। তাদের প্রতিষ্ঠিত অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঋশিল্পীপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয় সেজেছিল সাত রঙে। পঞ্চাশের ভালবাসায় তাদের প্রতিষ্ঠিত প্রতিবন্ধী আশ্রমে ছিল আকর্ষনীয় খাদ্য খাবারের পরিবেশনা। সেখান শিশুদের অনেককে তারা এনেছেন রাস্তা থেকে। কিন্তু শিশুরা প্রত্যেকে এই দম্পতির সন্তানের নাতি নাতনির মর্যাদায়। তাদের এনজো ও লাওরা তাদের দাদু ও দাদি। আর হাজার হাজার নারী ও পুরুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারীদের কাছে তারা দুইজন বাবা ও মা।
এই পঞ্চাশ বছর উদযাপন দেখতে তাই ইটালি থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণ জনপদের শেষ জেলা সাতক্ষীরায় এসেছেন মনিকা টুসি, লেল্লা, লিসিয়ানা, লুকা, লুইসা, আদা ও নাজারিও। একঝাঁক এই নাগরিকদের মধ্যে লিসিয়ানার সঙ্গে কথা বললে, তিনি জানান, এনসো লাওরারা পৃথিবীতে বিরল। সাধারণত আরাম আয়েশের জীবন ছেড়ে কেউ এরকম অনুন্নত দরিদ্র মানুষের মাঝে মিশে যাওয়া এবং সেই দেশের নাগরিক হয়ে জীবন কাটিয়ে দেয়া দুঃসাধ্য সাধনের মতো।
পঞ্চাশ বছর উদযাপনের অনুষ্ঠানে ছিল কে কাটা, আলোচনা, নাচ, গানে ভরপুর সাংস্কৃতিক এক রঙিন উৎসব। ঋশিল্পীর হাসপাতালে সেবা নেয়া দরিদ্র সাধারণ মানুষদের উৎফুল্লতা এনসোকে আবেগে ভাসিয়ে দেয়। আশি উর্ধ্ব এই ব্যক্তি ভেঙে পড়েন কান্নায়। বিরত থাকেন বক্তৃতা দেওয়া থেকে। তিনি এমনিতে কখনও মিডিয়াতে আসেন না। তারপর তার সেবা নিয়ে তিনি কোনো প্রচারেও জড়ান না। সহকারি অধ্যাপক হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, আশি উর্ধ্ব এই ব্যাক্তিদ্বয় সাতক্ষীরার লাখ লাখ মানুষের সেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাদের সব থেকে বড় যত কাজ আছে তার মধ্যে অন্যতম শিক্ষার প্রসার, দেশের উপকূলীয় এই জেলার মানুষের সুপেয় পানির সমস্যা মেটাতে লাখ লাখ মানুষকে বিনামুল্যে দিচ্ছেন সুপেয় পানি। আমরা তার বাংলাদেশের মানুষের সেবার পঞ্চাশ বছরকে স্মরণ করি কৃতজ্ঞ চিত্তে।