দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার তাফালবাড়িয়া হাসানিয়া আলিম মাদরাসার সহকারী শিক্ষক জাকারিয়ার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতি করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে ওই শিক্ষক আত্মগোপনে রয়েছেন।
এ ঘটনায় মঠবাড়িয়া থানায় বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে মামলা করা হয়েছে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ূম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, মাদরাসাটির ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের প্রভাষক মো. আলমগীর হোসেন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তার বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সরকারি নিয়মানুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন মাওলানা জাহাঙ্গীর হোসেন।
যথাযথ নিয়মে এ বছরের জানুয়ারি মাসের শিক্ষক-কর্মচারীদের বিল উত্তোলন করা হয়। কিন্তু যথারীতি প্রভাষক আলমগীর হোসেনের বেতন-ভাতা বন্ধ ছিল। পরে প্রতারণা, জাল জালিয়াতি ও অসদুপায় অবলম্বন করে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা চালায় সহকারী জাকারিয়া। একপর্যায়ে বাংলা প্রভাষক মাসুম গাজীর যোগসাজশে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল কাইয়ূম ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা জাহাঙ্গীর হোসেনের স্বাক্ষর-সিল জালিয়াতি করে রোববার সোনালী ব্যাংক মঠবাড়িয়া শাখায় জমা দেয়।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিস থেকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বিল পরিশোধ না করে বিলের কাগজ আটকে রাখতে বলা হয়। বিষয়টি টের পেয়ে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ওই শিক্ষক ব্যাংক থেকে পালিয়ে যায়।
প্রভাষক আলমগীর হোসেন জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতির বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আমার কিছু বিল বকেয়া ছিল।
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, সহকারী শিক্ষক জাকারিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদরাসার বিল কাগজ ব্যাংকে জমা দিয়ে আসছে। এ জালিয়াতির ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত।
এ ব্যাপারে মঠবাড়িয়া থানার ওসি আব্দুল আল মামুন ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তাফালবাড়িয়া হাসানিয়া আলিম মাদরাসার ৩ শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতি বিষয়ে মামলা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ূম জানান, আমার স্বাক্ষর ও সিল নকল সোনালী ব্যাংক মঠবাড়িয়া শাখায় বিলের জন্য জমা দেন। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনজনের বিরুদ্ধে আমি থানায় মামলা করেছি।
আরএ