দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুষ্টিয়ায় বেসরকারি আদ্–দ্বীন হাসপাতালে ফিরোজা খাতুন (৪৫) নামে এক রোগীর ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় চিকিৎসক আবদুর রহমানকে মারধর করেছেন রোগীর স্বজনেরা। পরে কর্তব্যরত নার্সরা মারধর থামাতে গেলে তাদের ওপর চড়াও হন তারা।
সোমবার (১৯ জুন) দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়া শহরে থানাপাড়ায় চাঁদ মোহাম্মদ সড়কে অবস্থিত হাসপাতালটির নিজস্ব ভবনে এ ঘটনা ঘটে। পরে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
মারা যাওয়া ফিরোজা খাতুন (৪২) কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার আইয়ুব আলীর স্ত্রী। ইতোমধ্যে মারধরের ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাহেব আলী জানান, হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে আমরা গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়শন (বিএমএ) কুষ্টিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ কুষ্টিয়া শাখার সভাপতি আমিনুল হক জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে মীমাংসা হয়ে গেছে।
আদ্–দ্বীন হাসপাতালের কর্মকর্তা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পিত্তথলিতে পাথর অপারেশনের জন্য গতকাল রোববার বিকেল ৪টার দিকে ফিরোজা খাতুনকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হয়। অস্ত্রপচারের করার কথা ছিল কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক (সার্জন) আমিরুল ইসলামের। এনেস্থেসিস্ট ছিলেন আবদুর রহমান।
আদ্–দ্বীন হাসপাতালের সহকারী মহাব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম বলেন, রোগীর মাঝেমধ্যে অচেতন হয়ে যাওয়ার প্রবণতা ছিল—যা তার স্বজনেরা চিকিৎসককে জানাননি। অস্ত্রোপচারের জন্য অচেতন করা হলে রোগীর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। এরপর রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত পাশের আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে রোগীর মৃত্যু হয়। কিন্তু রোগীর স্বজনেরা অভিযোগ করেন, রোগীকে মেরে ফেলা হয়েছে। চিকিৎসক আবদুর রহমান বিষয়টি রোগীর স্বজনদের বোঝাচ্ছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে তাকে লাথি মারেন। এরপর হাত দিয়েও আঘাত করেন। এ সময় নার্সেরা ঠেকাতে গেলে তাদের ওপরও চড়াও হন তারা। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
মারা যাওয়া ফিরোজা খাতুনের এক স্বজন বলেন, রোগীকে সুস্থ অবস্থায় অস্ত্রোপচার কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তিনি ওষুধ কিনতে বাইরে যান। এসে শোনেন চিকিৎসক বলছেন, রোগী অজ্ঞান হয়ে গেছে। অপারেশন করতে পারবেন না। এর পরপরই রোগী মারা যায়।