দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খাদ্যদ্রব্যের ক্রমবর্ধমান দামের ধাক্কা সামলানোই ওএমএস কর্মসূচি চলছে সারাদেশে। এতে ৫ কেজি চাল ১৫০ টাকায় ও ৫ কেজি আটা দেওয়া হচ্ছে ১০৫ টাকায়। অল্পমূল্যে এসব পন্য কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে নিম্ন আয়ের মানুষ। কিন্তু রাতভর অপেক্ষা করেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে মিলছেনা ওএমএসএর পন্য। এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা।
এদিকে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের দাবি-চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ একেবারে কম হওয়ায় চাহিদামত পণ্য সরবরাহ করতে পারছেনা তারা। আর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বলছেন- বরাদ্দ চেয়ে চিটি দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।সংশ্লিষ্ট বিভাগের তথ্যমতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৩ জন ওএমএসএর ডিলারের মাধ্যমে চাল ও আটা বিক্রি করা হচ্ছে স্বল্পমূল্যে। সপ্তাহে তিনদিন এসব পণ্য বিক্রি করেন ডিলাররা। দিনে বরাদ্দ থাকে মাত্র ২০০ জনের। কিন্তু এর বাইরেও অসংখ্য দরিদ্র পরিবারগুলো পণ্য কিনতে ভিড় করছেন দোকানে। গভীর রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেকে পণ্য না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন খালি হাতে। আবার কারও অভিযোগ নিজেদের আত্মীয় স্বজনদের অগ্রাধিকার দিচ্ছেন ডিলাররা। এনিয়ে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি তাদের।
শহরের রেলবস্তি এলাকার বৃদ্ধ সাজেদা খাতুন বলেন, চাল ও আটার জন্য ফজরের নামাজ পড়ে ওয়ালটন মোড়ে ডিলারের কাছে এসেছি। দুপুর দেড়টা পার হলেও এক কেজি পণ্য পাওয়া গেল না। বাধ্য হয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছি। তিনি বলেন, বাড়ীতে বৃদ্ধ স্বামী আছে, উপার্জনের কেউ নাই। চাল আটা কিছুই পেলাম না। এখন না খেয়ে থাকতে হবে।
একই এলাকার বাসিন্দা শরিফুন্নেসা বলেন, তার পরিবারের আয় রোজগার করার মত কেউ নাই। বাধ্য হয়ে কম টাকায় চাল ও আটা কিনতে এসেছেন। দিনভর অপেক্ষা করে মাত্র ৫ কেজি আটা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, চাল পেলে কোনো রকমে তরকারি কিনে পেট চলে। তাদের মতো অনেকেই চাল ও আটা না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যেতে দেখা গেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাঠান পাড়ার ওয়েমেস ডিলার মো.গোলাম রাব্বানী বলেন, তিনি মাসে তিনবার ২০০ জনের জন্য চাল ও আটা বরাদ্দ পান। কিন্তু এর বাইরেও অনেকে আসছেন। এতে চাহিদামত পণ্য সরবরাহ করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, চাল ও আটার বরাদ্দ বাড়ানো হলে শত শত হতদরিদ্র মানুষগুলোকে বাঁচানো যেত।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, খাদ্য সঙ্কটের বিষয়টি জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগে। বরাদ্দ পেলে বাড়ানো হবে সরবরাহ।
জরুরি খাদ্যপণ্য সরবরাহ করে নিম্ন আয়ের মানুষগুলোর চাহিদা নিশ্চিত হবে এমনটাই চাওয়া ভোক্তাদের।
এফএইচ/