দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, গত ১৬ বছর ধরে হাসিনা ও তার দোসররা দেশ লুটপাট করে খাইছে। মানুষের ওপর অন্যায়ভাবে অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছন। পুরো দেশটা বদ্ধ একটি কারাগার তৈরি করেছিলেন। মানুষের দম বন্ধ হয়ে যাওয়া উপক্রম হয়েছিল। মানুষ সহ্য করতে না পেরে রাস্তায় একসাথে নেমেছিলেন। ছাত্র-জনতার রোষাণলে দেশ থেকে হাসিনা পালিয়ে গেছে। কিন্তু তার প্রেতাত্নাা দেশে এখনও রয়ে গেছে। তারা দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে বারবার নানান কৌশল অবলম্বন করছেন। জনগণকে সাথে নিয়ে তাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে হবে।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) গাইবান্ধা স্টেডিয়ামে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. অধ্যাপক মইনুল হাসান সাদিকের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মাহমুদুন্নবী টিটুলের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন- বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক ও অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কমিটির গ্রাম বিষয়ক সম্পাদক আনিছুজ্জামান খান বাবুসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, সরকারের কিছু সদস্য সন্তানতুল্য। তারা গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত ছিল। সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে সবাইকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বাজার ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে না। ষড়যন্ত্রকারীদের দমিয়ে রাখাও সম্ভব হবে না। অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর আস্থা রয়েছে। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন ও দেশকে গণতন্ত্রমুখী এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে। শুধু সংস্কার নয়, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে। এজন্য যৌক্তিক সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে দেশের সব সংকট কেটে যাবে।
তিনি বলেন, অনেকেই শিশুসুলভ বক্তব্য দেন। এগুলো প্রত্যাহার করেন। আপনাদের জন্মের অনেক আগেই বিএনপি কয়েকবার ক্ষমতায় এসেছে। আপনারা যখন শিশু ছিলেন তখনই বিএনপি আন্দোলনে নেমেছে। ১৫ বছর পরে আপনারা আন্দোলন করলেন। সবাই আপনাদের সঙ্গে অংশ নিয়েছে।
দুদু বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা কী ছিল, সেটা সবাই জানেন। আকাঙ্ক্ষা ছিল মানুষ যেন ভোট দিতে পারে। মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যভাবে বাজার করতে পারবে, চলাফেরা করতে পারবে, দেশে খুন ও গুম হবে না, দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণ হবে ও দুর্নীতি বন্ধ হবে। দেশে সীমাহীন ব্যাংক লুট, ঘুস ও দুর্নীতি বন্ধ হবে; কিন্তু এগুলো এখনও দুঃখজনক পর্যায়ে আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যারা ছাত্র-জনতার ওপর গুলি করেছে তারা এখনও বহাল তবিয়তে আছে।
প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি সম্মানিত মানুষ। এমন কোনো কাজ করবেন না, যাতে আপনার ওপর দেশের মানুষের মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয় ও সম্মান নষ্ট হয়। আপনার ওপর এখনও বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা আছে। সেই আস্থা নষ্ট করবেন না। আপনাকে কেউ না কেউ ব্যবহার ও কলঙ্কিত করতে চাচ্ছে। এই জায়গায় সতর্ক থাকতে হবে।
আরএ