দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

‘‘আমাগো কথা ছাড়া পুলিশ আইলে বাইন্দা থুমু জায়গার ওপর” পিরোজপুরের নাজিরপুরে এক বিএনপি নেতার অডিও ভাইরাল হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া অডিওটি উপজেলার ৩নং দেউলবাড়ী দোবড়া ইউনিয়নের ৪ নং পদ্মডুবী ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মো. মন্টু হাওলাদার (৪৫) এর। তিনি অত্র এলাকার মৃত আনোয়ার হাওলাদার এর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি অনলাইন জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জুয়ারী চক্রের দালাল ও বিএনপি নেতা মো. মন্টু হাওলাদার গত ২১ জানুয়ারী হাইউল ও তার ভাই কাইউম নামের দুই যুবককে পিটিয়ে রক্তাক্ত ও জখম করে। বিষয়টি নিয়ে হাইউল নাজিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এর প্রেক্ষিতে ওই বিএনপি নেতা পুলিশকে উদ্দেশ্য করে মুঠোফোনের অপর প্রান্তে থাকা তার এক সহযোগী আ. লীগ নেতাকে বলেন," এ জগতে যারা আছে তাদের মধ্যে আমরাই ভালো মানুষ, এর থেকে ভালো মানুষ এহন আর নাই। আমাগো ধারেই আচার-বিচার সব আসে, আর আইবেও। আমরা পুলিশকে আইতে কইলে আইবে, না কইলে আইবে না। আমাগো কথা ছাড়া পুলিশ আইলে বাইন্দা থুমু জায়গার ওপর। আমাগো ১ লাখ টাকা দিলে এই কেসটা আমরা দেখমু। এসময় মারামারির ঘটনা বর্ননা দিতে শোনা যায় তাকে। পুলিশের কাছে মামলা করতে গেছে, আমার নাম শুনে মামলা নেয়নি। ফাঁড়ি থেকে ফোন করে আমাকে বলছে যে মামলা নেয়নি। ডিসি, থানা, ফাঁড়ি সব বুকআপ করে ফেলাইছি ফোনে, ফোনে। ইদ্রিস ডাক্তার এ ফয়সালা করে দেবে, দুই গ্রুপই বিএনপির"।
এ বিষয়ে নাজিরপুর থানার ওসি মো. মাহমুদ আল ফরিদ ভূইয়া জানান, মন্টু হাওলাদার নামের পদ্মডুবী এলাকার এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হয়েছে। তদন্ত চলমান, আসামি গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। অডিওটির বিষয়টি খতিয়ে দেখব। আইন হাতে তুলে নেওয়ার ক্ষমতা কারো নাই।
এ বিষয়ে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশ কোনো ব্যক্তি বিশেষের কথায় পরিচালিত হয় না, পুলিশ অবশ্য আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। পল্লী বিদ্যুৎ ব্যাপারটা আমি জিএম সাহেবকে বলেছি, এটাও আমরা আইনের মাধ্যমে দেখতেছি।
ওই একই নেতার আর একটি ভিডিওতে দেখা যায় নাজিরপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীরা লাইন পরিষ্কারের জন্য তার বাড়ির সামনের গাছ কাটলে তাদেরকে হুমকি দিয়ে বলেন, গাছে ঢাল জোড়াইয়া দিয়ে যাবেন, আমার নামসহ বলবেন যে সে বলছে, আপনি অফিসে ফোন দেন, না হলে যেতে পারবেন না। আপনাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখব। ভিডিওতে দেখা যায় পল্লী বিদ্যুৎ এর কর্মী তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন হাজার হাজার মানুষের গাছের ঢাল কেটেছি কেহ কিছু বললো না। তখন মন্টু বলেন, আমি হাজারের মধ্যে একজন।
হামলার শিকার হাইউল নামের স্থানীয় এক ছাত্রনেতা জানান, মন্টু ও তার ক্যাডার বাহিনী এলকায় অনলাইন জুয়া, চাঁদাবাজিসহ মানুষকে নানা হুমকি দেয়। আমি তার ওইসব কর্মকান্ডের ভিডিও ধারন করি। মন্টু এসব জেনে আমাদের দুই ভাইকে পদ্মডুবী বাজারে এনে ভিডিও, অডিও ডিলেট করতে বলে। এগুলো ডিলেট না করায় আমাদের ওপর হামলা করে রক্তাক্ত জখম করে। এবং তাদের এই ভিডিও, অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছেড়ে দিলে আমাকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত মন্টু হাওলাদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে ফোনে পাওয়া যায় নাই।
এফএইচ/