দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি করছে চীন। এ বিষয়ে আমরা পত্র-পত্রিকায় দেখে চীনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য চেয়েছি। এই বাঁধ যেখানে হবে তাদের এই প্রকল্পের কারণে এর নিচু অঞ্চলে যারা রয়েছেন তাদের ক্ষতি হবে না বলে চীন আমাদেরকে জানিয়েছে। তারপরেও আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলেছি যেন চীনের কাছ থেকে তথ্যপত্র উপাত্তগুলো চাই। তথ্য-উপাত্তগুলো না পেলে এ বিষয়ে কোনো কিছু বলা এখনই সম্ভব না।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের ৫৫তম পরিচালনা বোর্ডের সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে তিনি ফরিদপুর নদী গবেষণাসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করেন। পরে তিনি নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট চত্বর ঘুরে দেখেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, যেখানে ভারত বাঁধ তৈরি করছে সেখানে তাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপক বিরোধিতা রয়েছে। এখানে একটি বিষয় হলো আমরা নিচু অঞ্চলের দেশ একদিকে তিস্তা নদীতে পানি কমে গেছে। অন্যদিকে পদ্মা নদীতেও পানি কমে গেছে। এখন যদি ব্রহ্মপুত্র নদেও পানি কমে যায় তাহলে আমরা যে নদীমাতৃক দেশ সেখানে একটি কম্প্রোমাইজ সমস্যায় পড়বো। কাজেই আমরা চীনের কাছে তথ্য উপাত্ত চেয়েছি আর ভারতের কাছেও চাইবো।
তিনি বলেন, আমাদের স্বার্থকে অক্ষুণ্ন রেখে তারা যাতে কাজ করে সেটা নিশ্চিত করব। এখানে একটি নতুন মোড় সেটা হচ্ছে, সব সময় বাংলাদেশ-ভারতকে বলে আমাদের স্বার্থ অখুণ্ন রাখতে হবে। এবার কিন্তু ঘটনাটা একটু উল্টো। এখন কিন্তু ভারত চীনকে একথা বলতে বাধ্য হচ্ছে। এদিকে ভারত যে সিয়াং নদীর ওপর যে বাঁধ তৈরি করছে সে বিষয়ে তাদের কাছে তথ্য উপাত্ত চাওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া আমরা শুরু করেছি। যাতে আমরা নিচু অঞ্চলে রয়েছি তাদের যেন ক্ষতি না হয় সে ব্যাপারটাই আমরা দেখব।
তিনি আরও বলেন, রোববার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহিংতার ঘটনা উসকানিমূলক কি না তা সরকারের বিভিন্ন সংস্থা খতিয়ে দেখছেন। এত বড় সহিংসতার প্রয়োজন ছিল কি না বা ঘটনাটি মীমাংসার সুযোগ ছিল কি না তাও তদন্ত করে দেখা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান, নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট এর মহাপরিচালক এস এম আবু হোরায়রা, ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা, ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আব্দুল জলিলসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চ পর্যায়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারিবৃন্দ।
এরপর বিকেলে তিনি ফরিদপুর নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
আরএ