দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গত শনিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে অজ্ঞাত সড়কে পাশে রক্তাক্ত ঠোঁটকাটা অবস্থায় ফেসবুকে মাত্র ৪৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের বেলায় অজ্ঞাত সড়কের উপরে বসে আছে রক্তাক্ত এক কিশোরী। মুখে ও বুকে তার রক্ত। টর্চ লাইটের আলোয় স্থানীয়রা তার পরিচয় জানতে চাইছে। অষ্পষ্ট ভাষায় বলা তার কোনো কথা বোঝা যাচ্ছে না।
ভাইরাল ভিডিও’র মেয়েটির পরিচয় মিলেছে। আহত মেয়েটির নাম অনন্যা আক্তার (১৫)। তিনি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাউলীবেড়া ইউনিয়নের উত্তর কাউলীবেড়া গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী তারা মিয়ার মেয়ে। অনন্যা কাউলীবেড়া দারুস সুন্নাহ কওমি মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।
এদিকে, মেয়েটির বাবা তারা মিয়া ভিডিও দেখার পরে স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে অবস্থান করছেন। রোববার (২৬ জানুয়ারি) রাত পর্যন্তও মেয়েটির সন্ধান মিলেনি। ভিডিওটি কোন জেলা-থানা এখনও কোনো তথ্য পাননি তার স্বজনরা ও পুলিশ।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন অনন্যা। পরিবারের পক্ষ থেকে গত বৃহস্পতিবার ভাঙ্গা থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়। এরপর ফেসবুকে সড়কে পাশে ঠোঁটকাটা অবস্থায় রক্তাক্ত অনন্যার ভিডিও দেখে তাকে শনাক্ত করে তার পরিবার। পরে রোববার দুপুরে ভাঙ্গা থানা পুলিশ তারা মিয়ার বাড়ি যেয়ে অনন্যা আক্তারের খোঁজ-খবর ও তথ্য সংগ্রহ করেন ভাঙ্গা থানা পুলিশ।
এলাকাবাসী জানান, অনন্যা সহজ সরল প্রকৃতির একটি মেয়ে। ভিডিও দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কেউ তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় কোনো গাড়ি অথবা মোটরসাইকেলে অ্যাক্সিডেন্ট করেছে, না হয় কেউ তাকে তুলে নিয়ে আপত্তিকর কিছু করে রাস্তার পাশে ফেলে গেছে। তারা মেয়েটিকে উদ্ধার করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানান।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোকছেদুর রহমান বলেন, ফেসবুকে ভাইরাল ভিডিওটি দেখেছি। বিষটি জানতে পেরে অনন্যা আক্তারের বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে ভিডিও’র স্থানটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে বিভিন্ন থানার ওসিদের গ্রুপে বার্তা পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে।
আরএ