দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]
দেশের ইসলামি দলগুলোর ঐক্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার লক্ষে দোয়া চেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।
তারা একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, দেশের ইসলামি দলগুলো নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় নিজেদের একত্রিত করে জনগণের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই মাদরাসা পরিদর্শনকালে তারা এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এমন ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা ইসলামি দলগুলোর মধ্যে ঐক্য চাই এবং এটি আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। আমাদের ঐক্যবদ্ধ শক্তি দিয়ে আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন হতে দেব না। নির্বাচন সংস্কার শেষ হলে এবং যথাযথ সময়ের মধ্যে নির্বাচন দেওয়া হলে আমরা অবশ্যই অংশগ্রহণ করব।
তিনি আরও বলেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে শতকরা ৯১ জন মুসলমান। আমাদের উচিত ইসলামের বিধান মেনে একটি সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। যেখানে আল্লাহর বিধান থাকবে, সেখানে দুর্নীতি ও অপশাসন আসবে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের স্বাধীনতার ৫৪ বছর পূর্ণ হলেও আমরা স্বাধীন দেশের মর্যাদা পাইনি। এর মূল কারণ দুর্নীতি ও দুঃশাসন। যেখানে আল্লাহর বিধান থাকবে না, সেখানে দুর্নীতি এবং অশাসন আসবেই। যদি আমরা সমাজে আল্লাহর বিধান মানতাম, তাহলে দেশ এভাবে হতো না।
এ সময় চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, নির্বাচনে ইসলামের পক্ষে একটি বাক্স কেন্দ্রে পাঠানোর প্রচেষ্টা আগেও ছিল, এখনো তা অব্যাহত আছে। তবে এ প্রচেষ্টা সফল হবে যদি আমরা সময়মতো পদক্ষেপ নিতে পারি। সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন এই দুই দল চায় এবং এটি দেশের জন্য উপকারী হবে।
একই দিন বিকেলে বরিশাল নগরীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে এক কর্মী সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি ক্ষমতার রাক্ষস। তাদের প্রত্যেকের গণহত্যার বিচার হতে হবে। এ দেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘আগে গণহত্যার বিচার হোক, তারপর জনগণ রায় দেবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির অধিকার আছে কি না।’ এ সময় তিনি কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, ‘যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি, বরং এটি শুরু হয়েছে। কর্মীরা প্রস্তুত থাকুন। আজ বাংলাদেশের মানুষ বৈষম্য চায় না বরং তারা সুশাসন চায়।’
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মহানগর জামায়াতের আমির জহির উদ্দীন মুহাম্মদ বাবর, কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, আবদুল হালিম, জেলা আমির আবদুল জব্বার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্তর বাবা প্রমুখ।
আরএ