দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের চর এলাহী ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন দুর্গম দ্বীপ চরবালুয়ায় মা-মেয়েকে গণধর্ষণের অভিযোগে উঠেছে। এ ঘটনায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
রোববার (২৭ অক্টোবর) ধর্ষণের ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা হয়েছে।
এর আগে গত সোমবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার চর এলাহী ইউনিয়নের দুর্গম চরবালুয়ায় এই ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- চরএলাহী ইউনিয়নের চরবালুয়া গ্রামের হানিফ চৌকিদারের ছেলে মো.হারুন (৪০) ও বেলায়েত হোসেনের ছেলে মো. হাসান (৩৮)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার নারীর স্বামী চট্টগ্রামে কাভার্ডভ্যান চালান। তিনি তার বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়া মেয়েকে নিয়ে উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের দুর্গম এলাকা চরবালুয়ায় নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। তার এক দূর সম্পর্কের দেবর (২১) প্রায় তাদের বাড়িতে আসা যাওয়া করতেন। এ নিয়ে স্থানীয় রাশেদ, সাইফুল, হাসান, হারুন, রাজু ও ইব্রাহিম তাদের মা-মেয়েকে সন্দেহ করতেন। গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ৬ জন লোক ভুক্তভোগীদের বাড়িতে এসে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এসময় ওই নারীর দেবরকে বেঁধে তাকে ও তার মেয়েকে (১৮) জোর করে টেনে-হিঁচড়ে ঘর থেকে বাহিরে নিয়ে যান। ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে বলেন, তিনজন তাকে টেনে হিঁচড়ে বাড়ির পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়। অন্য তিনজন মেয়েকে বসতঘরের পাশের রান্নাঘরে নিয়ে যায়। সেখানে রাত তিনটা পর্যন্ত পালাক্রমে তারা ধর্ষণ করে। যাওয়ার সময় টাকা-পয়সাসহ ঘরের জিনিসপত্রও লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দিয়ে যায়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার প্রধান আসামি ইব্রাহিম তোতা বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় আমি জড়িত নই। গত কিছু দিন আগে চরএলাহী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমার বাবা আব্দুল মতিন তোতাকে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার পর থেকে রাজ্জাক বাহিনী আমাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা দায়ের করেন। নির্যাতিত নারী রাজ্জাক চেয়ারম্যানের নিকট আত্মীয়। মূলত আমার বাবার হত্যা মামলাকে চাপা দিতে ধর্ষণের ঘটনায় প্রতিহিংসামূলকভাবে আমার নাম জড়িয়ে দেয়। আমি প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। একই সাথে আমি অপরাধী হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মাথা পেতে নেব।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ছয়জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করার হয়। নির্যাতিতদের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো রয়েছে।
আরএ