দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে গত ১৮ জুলাই নগরীর আখালিয়ায় ও ৪ আগস্ট কোর্ট পয়েন্টে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ক্যাডাররা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান ছাত্র-জনতার উপর। এসময় প্রদর্শিত অত্যাধুনিক অস্ত্র দেখে হতবাক হয়ে যান সিলেটের মানুষ।
অভিযোগ উঠেছে, প্রদর্শিত অস্ত্রের মধ্যে এম-১৬ রাইফেলও ছিল। শুধু সিলেট নয়, হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সামনে ছাত্র-জনতাকে লক্ষ্য করে চালানো হয় হামলা। সেদিন গুলিতে দুজন নিহত হন। আহত হন বেশ কয়েকজন। এসব ঘটনায় সিলেট ও হবিগঞ্জে অস্ত্রধারী ২৪ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের কাউকেই গ্রেপ্তার করা যায়নি।
তবে এসব ঘটনায় সিলেটের অস্ত্রধারী ১২ জন এবং হবিগঞ্জের ১২ জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে কারো নাম প্রকাশ করেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, প্রদর্শিত এম-১৬ রাইফেলটি সেই সময়কার সিটি মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা শিবলু আহমদের হাতে দেখা গেছে। এর আগে গত ১৮ জুলাই নগরের আখালিয়া এলাকায় পুলিশের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায় আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এসময় অস্ত্র দিয়ে প্রকাশ্যে গুলি ছুঁড়েন তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা। পরবর্তীতে ৪ আগস্ট সিলেট নগরের কোর্ট পয়েন্টে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ছাত্র-জনতা অবস্থান নিলে তাদেরকে হটাতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ক্যাডাররা অস্ত্রের মহড়া দেন। তারা অস্ত্র হাতে ছাত্র-জনতার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।
এছাড়াও আন্দোলন চলাকালীন সময়ে যাদেরকে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করতে দেখা গেছে তাদের মধ্যে ছিলেন সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন খান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহসভাপতি পিযুষ কান্তি দে, মহানগর যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমএ হান্নান, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সজল দাস অনিক, মেজরটিলার ছাত্রলীগ ক্যাডার আনসার আহমদ ওরফে শুটার আনসার, ছাত্রলীগ ক্যাডার হাসান আহমদ, ২নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী বাবুল আহমদ পাঙ্গাস, মুনিম আহমদ।
এদিকে গত ৪ আগস্ট হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সামনে ছাত্র-জনতাকে লক্ষ্য করে হামলা চালান তৎকালীন এমপি আবু জাহিরের নেতৃত্বে অন্তত ১২ জন অস্ত্রধারী। সেদিন অস্ত্রধারীদের গুলিতে দুজন নিহত হন। আহত হন বেশ কয়েকজন।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ১৮ জুলাই ও ৪ আগস্ট পর প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনকারীরা গা ঢাকা দিয়েছে। সিলেটে অস্ত্রধারী কেউ এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। ৪ আগস্ট পর কেউ ভারতে পালিয়েছে বা কেউ দেশের অন্যান্য জেলায় লুকিয়ে আছে। আমরা তাদের গ্রেপ্তারে কাজ করছি। যেকোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। একই সাথে অস্ত্রধারীদের অবস্থান কারো জানা থাকলে পুলিশকে সহযোগিতা আহ্বান জানানো হচ্ছে।
আরএ