দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় হেলিকপ্টারে করে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে সিলেট থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও পুরোনো বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট কেন্দ্রীয় কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) মো. ছগির মিয়া। তিনি জানান, আগামীকাল বুধবার ঢাকার আদালতে একটি মামলার হাজিরা রয়েছে মানিকের।
এদিকে, সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ-চেষ্টার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক মঙ্গলবার সকালে জামিন পেয়েছেন। সকালে আদালত তাকে জামিন দেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মানিককে সিলেট অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল মেজিস্ট্র্যাট আদালতে তুলে পুলিশ সিলেটের কানাইঘাট থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে। এর প্রেক্ষিতে আদালতটির বিজ্ঞ বিচারক মানিককে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।
অপরদিকে, শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের আইনজীবী আদালতে এই মামলায় জামিন আবেদন করলে সেটি মঞ্জুর করেন আদালত। তবে অন্যান্য মামলা থাকায় তিনি কারাগারেই থাকছেন।
গত ২৩ আগস্ট রাতে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে একটি জঙ্গল থেকে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সহায়তায় আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরদিন (২৪ আগস্ট) সকালে তাকে কানাইঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়। ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ওই দিন বিকেলে আদালতে হাজির করলে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আলমগীর হোসাইন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে পাসপোর্ট আইনে মানিকের বিরুদ্ধে কানাইঘাট থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
২৪ আগস্ট সিলেট আদালতে প্রবেশের সময় আদালত প্রাঙ্গণে থাকা বিক্ষুব্ধ জনতা শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে বেধড়ক কিল-ঘুষি মারেন। তার অণ্ডকোষেও গুরুতর আঘাত লাগে। অনেকে ডিম ছোড়ার পাশাপাশি জুতাও নিক্ষেপ করেন। আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার পর সন্ধ্যায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ওসমানীতে তার শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়। ২০ দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর ১২ সেপ্টেম্বর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় মানিককে ছাড়পত্র (ডিসচার্জ) দেয় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিন বিকেলে কড়া নিরাপত্তা ও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে হাসপাতাল থেকে তাকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। শামসুদ্দিন মানিকের হার্টে সমস্যা আছে। ১০ বছর আগে বাইপাস সার্জারি করেছিলেন। এ ছাড়া ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ আছে।
এফএইচ