দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাঙামাটিতে টানা বর্ষণে জেলার বিভিন্ন স্থানে ২০টি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সকালে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের ঘাগড়ার কলাবাগান এলাকায় পাহাড় ধসে প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পরবর্তীতে সড়ক বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সড়ক থেকে মাটি সরিয়ে যান চলাচল সচল করে। তবে মহালছড়ি এলাকায় সড়কের পানি থাকায় বন্ধ রয়েছে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি আন্তঃজেলা যান চলাচল। জেলার কাউখালী উপজেলার ইছামতি খাল ও কাউখালী খালে পানি বেড়ে ডুবে গেছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২০টি ঘর।
এদিকে, জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে বেড়াতে আসা আড়াইশ’ পর্যটক আজও সাজেক ত্যাগ করতে পারেনি। কাচালং নদীর পানি বেড়ে খাগড়াছড়ি-সাজেকের একাধিক স্থানে সড়ক ডুবে যাওয়ায় পর্যটকরা গতকাল থেকে আটকা পড়েছে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিরিন আক্তার বলেন, আপাতত সাজেকে আটকা পড়া পর্যটকদের বিকল্প উপায় নিয়ে যাওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আজও তাদের সাজেকে অবস্থান করতে হবে। উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটেছে। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হলেও রাতের বৃষ্টিতে আরও কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনের এক দল ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করে। এসময় পাহাড়ের ঢলে বসবাসরতদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি জেলা তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে শহরে মাইকিং চলমান রয়েছে।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মো. মোশারফ হোসেন জানান, জেলায় ছোট-বড় কয়েকটি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলেও কোথাও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বাঘাইছড়িতে বন্যার পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় প্রায় দুই হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। এছাড়া রাঙামাটি সদরে পাহাড় ধসে ঝুঁকিতে আছে ১৩৬৬ মানুষ। প্রাণহানি এড়াতে ৭৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে।
আরএ