দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

এ বছর মেঘনায় জেলেদের জালে তেমন ইলিশ আসছে না। জেলেরা গভীর সমুদ্রে গিয়ে বিমর্ষ মনে ফিরে আসছে। পর্যাপ্ত ইলিশ না পাওয়ায় জেলেরা রয়েছে দুঃশ্চিন্তায়। দাদনের টাকা পরিশোধ নিয়ে তারা পার করছে অনিশ্চিত সময়। এ দুঃসময়েও নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মেঘনা নদীতে জেলের জালে প্রায় ৩ কেজি ওজনের একটি ইলিশ মাছ ধরা পড়েছে।
মাছটি মাছঘাটে আনলে সর্বোচ্চ দাম হাঁকিয়ে ৮ হাজার ৭০০ টাকায় কিনে নেন নিজাম বেপারী নামে এক ব্যবসায়ী। এসময় বড় ইলিশটি দেখতে মাছঘাটে ভিড় জমায় স্থানীয় ও দর্শনার্থীরা।
রোববার (১৪ জুলাই) রাতে উপজেলার চর ইশ্বর ইউনিয়নের বাতান খাল বউ বাজার মাছ ঘাটে ইলিশটি নিলামে বিক্রি করা হয়।
জানা যায়, মফিজ মাঝি নামে এক জেলে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে এই ইলিশ মাছটি পেয়েছেন। তারপর তিনি চর ইশ্বর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হালিম আজাদের মৎস্য আড়তে নিয়ে আসেন। আবদুল হালিম আজাদ নিলামের ডাক দিলে মাছটি ৮ হাজার ৭০০ টাকায় কিনে নেন নিজাম বেপারী। তারপর মাছটির সাথে ছবি তুলতে স্থানীয় ও দর্শনার্থীরা ভিড় জমান।
জেলে মফিজ মাঝি বলেন, অল্প হলেও এখন জেলেদের জালে বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়ছে। তবে নদীতে ইলিশ কম পাওয়া যাচ্ছে। রোববার সকালে আমি নদীতে জাল ফেলেছি। দুপুরে জাল উঠিয়েছি। এতে অন্যান্য মাছের সাথে বড় একটা ইলিশ ধরা পড়ে। পরে বাতান খাল বউ বাজার মাছঘাটে নিয়ে আড়তে মাছটির ডাক ওঠানো হয়। ভালো দাম পেয়েছি।
চর ইশ্বর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হালিম আজাদ বলেন, মেঘনা নদীতে এখন ভরা মৌসুম থাকলেও ইলিশ তেমন একটা পাওয়া যাচ্ছে না। মফিজ মাঝির জালে ধরা পড়া প্রায় তিন কেজি ওজনের ইলিশ চমক ছিল। এত বড় ইলিশ সচরাচর পাওয়া যায় না। বড় ইলিশ হওয়ায় দাম বেশি হয়েছে।
হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফাহাদ হাসান বলেন, সরকার মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে ইলিশের প্রজনন মৌসুম নিরাপদ করেছে। পাশপাশি মাছের জন্য অভয়াশ্রম তৈরি করা এবং সাগরে নির্দিষ্ট সময় মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে। ফলে এখন মাছ যেমন বড় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, তেমনি মাছের বংশবৃদ্ধি এবং উৎপাদন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীতে মাছ কম পেলেও সামনে নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে মাছ বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
আরএ