দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সুগন্ধা আর বিশখালী নদী থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে রুপালি ইলিশ। যে কয়টা ইলিশের দেখা মেলে তাও আকারে ছোট। এ অবস্থায় পেশায় টিকে থাকা নিয়ে শঙ্কায় আছেন ঝালকাঠির সাড়ে তিন হাজার জেলে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবসহ নানা কারণে নদীতে ইলিশ কম আসছে। এতে জেলায় ইলিশের সরবরাহ আশানুরূপ হচ্ছে না বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।
জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ১২টি নদী রয়েছে। তবে নদীগুলোর ঘিরে রেখেছে সুগন্ধা ও বিশখালী নদী। জেলার ৪টি উপজেলাকে ঘিরে রাখা এই দুই নদীর পাড়ে কয়েক হাজার জেলে বংশ পরম্পরায় ইলিশ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু নদী দুটিতে আগের মতো আর ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। আর যা পাওয়া যায়, তা আকারে ছোট। ফলে জেলেদের মধ্যে নেমে এসেছে হতাশা।
বৈশ্বিক জলবায়ুর প্রভাবে নদী যেমন শুকিয়ে যাচ্ছে, তেমনি সেতু ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং চর দখল করে স্থাপনা গড়ে তোলায় নদীতে সুষ্টি হচ্ছে ডুবোচর; কমেছে পানি। ফলে সমুদ্র থেকে ইলিশ নদীতে আসার পথে বাধা পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। কিছু মাছ আসলেও গভীর পানির মাছগুলো স্বাভাবিক পরিবেশ না পেয়ে বেড়ে উঠতে পারছে না।
সুগন্ধা নদীতে ইলিশ শিকার করেন করিম মোল্লাহ। বাবা ও দাদার সঙ্গে তিনি বিশখালী ও সুগন্ধা নদীতেও মাছ ধরেছেন। তাদের মৃত্যুর পরও আঁকড়ে আছেন এ পেশা।
তিনি বলেন, বাপ-দাদার আমলে আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের বড় বড় ইলিশ ধরেছি। আর এখন মাত্র সাড়ে সাতশ গ্রামের বেশি ওজনের ইলিশের দেখা পাওয়া যায় না। নদীর নাব্যতা কমে গেছে। গভীর পানির ইলিশ এখন সুগন্ধা ও বিশখালীতে এসে উপযোগী পরিবেশ পাচ্ছে না। ফলে মাছের আকারও দিন দিন ছোট হচ্ছে। সুগন্ধা পাড়ের জেলে পরিবারের নারী শিউলী বলেন, প্রতিবছর এই মৌসুমে ইলিশ মাছ ধরে যে আয় হয়, তা দিয়েই আমাদের সারাবছর চলত। আবার ধারদেনাও পরিশোধ করেছি। কিন্তু এ বছর ভরা মৌসুমেও আমার স্বামী খালি হাতে ফিরে আসছেন। এতে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া ও বাজার খরচসহ দেনা কীভাবে পরিশোধ করব, ভেবে পাচ্ছি না। আষাঢ় মাস ইলিশের মৌসুম। বৃষ্টিও হচ্ছে; কিন্তু বাজারে ইলিশের সরবরাহ নেই। সবাই শূন্য হাতে আসছেন। আর ইলিশ না পেয়ে ক্রেতারা বাজারে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব উল্লেখ করে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, দিন দিন নদীতে ইলিশ আসা কমে যাচ্ছে। ফলে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য গবাদিপশু বিতরণসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
কে