দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সারাদেশের মতো সাতক্ষীরার ঘরে ঘরে এসেছে বিদ্যুৎ। তবে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। হঠাৎ ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে জেলাবাসী। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুতের লুকোচুরির কারণে তাদের পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে তীব্র তাপদাহ আর অন্যদিকে ঘন ঘন বিদ্যুত বিভ্রাটে নাকাল হয়ে পড়েছে জেলার ২২ লক্ষাধিক মানুষ।
এছাড়া লোডশেডিংয়ের কারণে জেলার বিসিক শিল্পনগরীতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ শিল্পনগরীর অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদনে মারাত্মকভাবে প্রভাব পড়ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সাতক্ষীরা শহরের সরকারপাড়ার এলাকার বাসিন্দা গেলাম সরোয়ার জানান, সাতক্ষীরা জেলাতে তীব্র তাপদাহ চলছে, তার উপর ভয়াবহ লোডশেডিং শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষজন নাকাল হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্ক মানুষজন অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তাছাড়া আগামী ৩০ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এখন যদি শিক্ষার্থীরা ঠিকমত পড়াশুনা করতে না পারে তাহলে পরীক্ষাতে ক্ষতির সম্মুখিন হতে হবে তাদের।
পার্শ্ববর্তী কাটিয়া এলাকার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান ও বলেন, অসহনীয় গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিং সাধারণ মানুষজন অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। গরমের যন্ত্রণায় রাতের ঘুম নষ্ট করে মানুষজন রাস্তায় রাস্তায় বেড়িয়ে পড়ছেন। শিক্ষক নিমাই মন্ডল বলেন, সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। তাদের পরীক্ষা এমনিতে সময়সীমার আগে ভাগে হচ্ছে তার সঙ্গে এভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শিক্ষার্থীদের বারোটা বেজে যাচ্ছে।
সাতক্ষীরা বিসিক শিল্পনগরীর উপব্যবস্থাপক গৌরব দাশ বলেন, বিসিকে উৎপাদনশীল ৪২টি কারখানা রয়েছে। গত তিন দিন যাবত ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে এসব শিল্প কারখানাগুলোতে মারাত্মকভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তিনি দ্রুত বিদ্যুৎ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুত সমিতির এজিএম মঞ্জরুল আকতার জানান, জেলায় তাদের ৬ লাখ ২৪ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১১০ মেগাওয়াট। সেখানে পাওয়া যাচ্ছে ৬৮ মেগওয়াট। ঘাটতি থাকছে ৪২ মেগাওয়াট। ফলে গ্রাহকের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কে এম মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, বিদ্যুৎ একঘণ্টা থাকলে পরের একঘণ্টা থাকছে না। এভাবে বিদ্যুৎ যাওয়া আসাতে তার প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ নির্ভর মুল্যবান সব চিকিৎসা সরঞ্জামাদি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। লোডশেডিংয়ের সঙ্গে ভোল্টেজের ওঠানামায় সকল যন্ত্রাদী কম বেশী ক্ষত্রিগ্রস্থ হচ্ছে।
অন্যদিকে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী-ওজাপাডিকো সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুনুর রহমান জানান, তার অধিনে সাতক্ষীরাতে ৫৫হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ চাহিদা ১৯ মেগাওয়াট। সেখানে পাওয়া যাচ্ছে ১৫ মেগওয়াট। এতে করে ঘাটতি থাকছে ৪ মেগাওয়াট। শহরের ১১টি ফিডার রয়েছে। যা থেকে পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং ওঠানামা করা হয়। তবে কবে নাগাত বিদ্যুত স্বাভাবিক হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।
সাতক্ষীরা পূবালী ব্যাংকের ম্যানেজার চন্দ্র শেখর বলেন, বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অনেক বেশী ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে। জেনারেটরে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হলেও ইন্টারনেট সংযোগ বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। সমস্যা হচ্ছে লেনদেনে।
সাতক্ষীরা জেলা বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিক ওনার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রাসেল বলেন, প্রচন্ড গরমে মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত। তার সাথে চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাট সব মানুষের জীবনকে দুর্বিসহ করে তুলেছে। সবার প্রত্যাশা দ্রুত এই বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে কার্যকরী ব্যবস্থা নেবে কতৃপক্ষ। কাটিয়া ধোপাপুকুর এলাকার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ফারিয়া যুথী জানায়, তাদের পরীক্ষার বাকি আছে মাত্র দু-তিনদিন। এর মধ্যে অব্যাহত লোডশেডিং। সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাড়িতে তো আর আইপিএস বা জেনারেটর সুবিধা নেই। তাদের পড়াশুনার সমস্যা হচ্ছে ব্যাপক। যার প্রভাব পড়বে পরীক্ষার খাতায়। এজন্য দ্রুত এই পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
এফএইচ