দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুমিল্লা হোমনা উপজেলার চান্দের চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হককে গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ওই উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ক্ষেমালিকা চাকমার বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২০ জুন) চান্দের চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন বাংলাদেশ সচিবালয়ের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, ঈদুল আযহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বরাদ্দ গরিবদের জন্য ঈদ উপহার ১০ (দশ) কেজি করে চাউল হোমনা উপজেলার ০৪ নং চান্দেরচর ইউনিয়ন পরিষদে ১৬ জুন সকাল ১০ টায় ইউ.পি সচিব মনির হোসেন ও পিআইও অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত এনামুলদের উপস্থিতিতে চাউল বিতরণ শুরু হয়। ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক অসুস্থতার কারণে বিতরণ কার্যক্রমে অনুপস্থিত ছিলো। এসময় সকাল সোয়া ১০ টায় ওই ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার হেলাল উদ্দিন, ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মাসুদ রানা এবং সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার শাহনাজ পারভীন চাউল বিতরণে বাধা দিয়ে বলেন 'পিআইও ও ইউএনও সাহেব তাদেরকে বলছে লিষ্ট ছাড়া তাদের কথামতো চাউল বিতরণ করতে হবে।'
কিন্তু, মেম্বারদের নিজস্ব লিস্ট মোতাবেক তাদের ওয়ার্ডের চাউল এর আগে গত ১৩ জুন তারিখে তাদের উপস্থিতিতে বিতরণ করা হয়েছে। তখন, ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল ইউএনও ও পিআইওকে মুঠোফোনে কল দিলে তারা ফোন রিসিভ করেন নি। পরে ইউপি চেয়ারম্যান হোমনার থানার ওসি'কে পুলিশ ফোর্স পাঠানোর জন্য ফোন দিলে তিনি ফোর্স পাঠাবে বলে ফোর্স পাঠান নি। পরে, ইউপি চেয়ারম্যান ইউএনও'কে পুনরায় ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করলে তাকে বিস্তারিত সব জানান। তখন ইউএনও মুঠোফোনে ওই ইউপি চেয়ারম্যানকে বলেন, 'মেম্বারদের সাথে সমন্বয় করে চাউল দিয়া দেন বা ফালাইয়া দেন বা যা খুশি তা করেন।'
পরে, ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল মুঠোফোনেই ইউএনও কে বলেন, 'গত ১১ জুন তারিখে লিস্ট মোতাবেক কার্ড বণ্টন হয়ে গেছে। এখন কীভাবে আমি মেম্বারদের সাথে সমন্বয় করে চাউল দিবো।' তখন ইউএনও ওই চেয়ারম্যানকে "বেয়াদব" বলে গালি দেন ও সামনে থাকলে "গুলি" করবে বলে হুমকি দেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে চান্দের চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বলেন, একজন প্রশাসনের লোক কোনো সাধারণ মানুষের সাথেও তো এভাবে কথা বলতে পারে না, সেখানে একজন জনপ্রতিনিধির সাথে কিভাবে এমন আচরণ করে। এই অধিকার উনাকে সরকার দেয় নাই। আমি প্রশাসনের কাছে উনার শাস্তি দাবি করছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে হোমনা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষেমালিকা চাকমার কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ধরণের কোনো কথা উনাকে বলা হয় নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে চাল বিতরণ করতে দিয়েছিলেন, তিনি সেটা আত্মসাৎ করতে চেয়েছিলেন। আমি বাঁধা প্রদান করাতে আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলছেন তিনি। আমার কাছে কি কোনো গুলি আছে, যে আমি উনাকে গুলি করার হুমকি দিবো। তার অনিয়মগুলো ধরা পড়ার ভয়ে সে এই অভিযোগগুলো করছে। এর আগেও তার চাল বিক্রি করে দেওয়ার রেকর্ড রয়েছে। তার অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এমএ