দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারে দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে বুধবার (১৯ জুন) বেলা ১টার দিকে ধলাই নদীর পানি বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে মাতারকাপন গ্রামসহ লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।
জানা গেছে, মৌলভীবাজারে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। মনু ও কুশিয়ারা নদী বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বর্ষণ ও ধলাই নদীর পুরনো ভাঙা বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জেলার তিন উপজেলায় পানিবন্দি কয়েক হাজার মানুষ।
জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত দুদিনের অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার বড়লেখা ও জুড়ি উপজেলার হাওরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলের অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। কমলগঞ্জের ধলাই নদীর পুরনো ভাঙা বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করেছে লোকালয়ে। এতে উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। বড়লেখায় খোলা হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র। ৭টি উপজেলার গ্রাম ও কিছু উপজেলার শহরে পানি প্রবেশ করেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
জানা গেছে, ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলার ৫০টি ইউনিয়নের প্রায় ৪শ’ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের লোকজন ঘর থেকে বের হতে সমস্যা হচ্ছে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের মাতারকাপন, বলিয়ারভাগ, সাবিয়া, শ্যামেরকোনাসহ বিভিন্ন গ্রামে বর্ষণের পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া মনু নদীর পানি কখনও বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করায় বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা, কমলগঞ্জ উপজেলা, বড়লেখা উপজেলা, জুড়ী উপজেলা, রাজনগর উপজেলা, শ্রীমঙ্গল উপজেলা ও কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মৌলভীবাজারের মনু নদী বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার এবং জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ২০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
উত্তর শাহবাজপুর ইউপির চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন আহমদ বলেন, আমার ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে পানি ঢুকেছে। এরই মধ্যে ৭ ও ৮নং ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত। অনেকে আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয় কেন্দ্রসহ পানিবন্দি মানুষকে খাবার ও ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি নগদ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক উর্মি বিনতে সালাম গণমাধ্যমকে জানান, জেলার উপজেলাগুলোতে মোট ৯৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে এগুলোতে ৫৭১টি পরিবারে আশ্রয় নিয়েছে। ৫৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, মনু, ধলাই ও জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হাওরের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। ইতোমধ্যে বন্যায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ২৫২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলের মাঠ। এতে প্রায় ১ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
তিনি আরও বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ২২টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ঘরে টিকতে না পেরে ৬০০ মানুষ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব কেন্দ্রে শুকনো খাবার ও স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। যদিও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে বন্যার্ত লোকজন জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজরাতুন নাঈম বুধবার দুপুরে জানিয়েছেন, ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ২৫২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ১ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। ২২টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন কেন্দ্রে ৬০০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। এসব পরিবারের মাঝে খাবারের পাশাপাশি শুকনো খাবার ও স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। বন্যা কবলিত এলাকায় সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আরএ