দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে এনে কাপ্তাই হ্রদের মাছের সোনালী অতীত ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রহমান এমপি।
তিনি বলেন, কাপ্তাই হ্রদের ড্রেজিংয়ের বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী কিছু দিনের মধ্যে এই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শনিবার (৪ মে) দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বৃহৎ ৭৩৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত ও জেলেদের মধ্যে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রহমান এমপি।
মাছের পোনা অবমুক্ত ও জেলেদের মধ্যে বিতরণের আগে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দরের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে আরও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষযক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহা-পরিচালক মো. জুলফিকার আলী, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মোহা. আবদুল আলীম মাহমুদ বিপিএম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাং সেলিম উদ্দিন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান, পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ, মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন রাঙামাটির ব্যবস্থাপক কমান্ডার আশরাফুল আলম ভুঁইয়া।
মন্ত্রী বলেন, কাপ্তাই হ্রদ নিয়ে পুরো বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা ভিন্ন রকম। সেই অবস্থায় কাপ্তাই হ্রদের যে অবস্থা থাকার কথা ছিল সেই অবস্থায় কাপ্তাই হ্রদ নেই। তাই এটিকে পুনরুদ্ধার করা আমাদের প্রধান কাজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কাপ্তাই হ্রদের অবস্থান সম্পর্কে জানানো হবে। কিভাবে এই কাপ্তাই হ্রদকে পুনরুদ্ধার বা হ্রদের সোনালী অতীত কিভাবে ফিরিয়ে আনা যায় তার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, আপাতত আমাদের দৃষ্টিতে যেটি মনে হয়েছে কাপ্তাই হ্রদের নাব্য কমে গেছে। এই নাব্যতা কিভাবে ফিরিয়ে আনা যায় সেই দিকে আমাদের প্রথমেই জোর দিতে হবে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এই তিনটি মন্ত্রণালয় এই হ্রদের সঙ্গে জড়িত রয়েছে সকলে মিলি সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই হ্রদের উন্নয়ন করা হবে। এর আগে কাপ্তাই হ্রদের ক্ষতিকর যে সকল বিষয় রয়েছে কাপ্তাই হ্রদের মা মাছ নিধন বন্ধ করা, ছোট মাছ আহরণ না করা, কাপ্তাই হ্রদে জাক বন্ধ করাসহ সকল বিষয়ে রাঙামাটির সকল মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী।
এ বছর কাপ্তাই হ্রদে ৬৫ মে. টন মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে। একইসঙ্গে প্রায় ২৭ হাজার জেলেকে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ করা হবে। মাছ ধরা বন্ধের তিন মাস একটি কার্ডের বিপরীতে ২০ কেজি চাল পাবে।
উল্লেখ্য প্রতিবছর কার্প জাতীয় মাছের প্রকৃতিক প্রজনন, বংশ বৃদ্ধির জন্য কাপ্তাই হ্রদে ৩ মাস মৎস্য আহরণ বন্ধ থাকে। এ বছর কাপ্তাই হ্রদ হতে ১৮ হাজের মৎস্য আহরণের বিপরীতে ১৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে।
জেবি