দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বর্ণিল আয়োজনে যশোরে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৮টায় যশোর ঈদগাহ ময়দানে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর সকাল সোয়া ৮টায় যশোর জেলা মডেল মসজিদে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। এতে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও আলাদা জায়গায় একই সঙ্গে জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন। নারীরা জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করতে পেরে খুশি। অনেকেই বলেছেন, মডেল মসজিদেই প্রথম তারা জামাতের ঈদের নামাজ আদায় করলেন।
সকাল ৮টায় যশোর ঈদগা ময়দানে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন কালেক্টরেট মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মুফতি ইয়াসিন আলম। দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৯টায়। এতে হাজারো মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। ঈদের নামাজে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, যশোরের জেলা প্রশাসক আবরাউল হাসান মজুমদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম শাহীন, যশোর পৌরসভার মেয়র হায়দার গণী খান পলাশ, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন প্রমুখ। নামাজ শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মার শান্তি কামনায় মোনাজাত করা হয়।
অপরদিকে, সকাল সোয়া ৮টা ও সকাল সোয়া ৯টায় যশোর জেলা মডেল মসজিদে দুটি জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। এতে পৃথক জায়গায় একইসঙ্গে নারী ও পুরুষ মুসল্লিরা ঈদের জামাতে অংশ নেন। জামাতের ঈদের নামাজ আদায় করেন অনেক নারী। মডেল মসজিদের তৃতীয়তলায় নারীদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা করা হয়। অনেকেই জীবনে প্রথম জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করতে পেরে খুশি।
উপশহর এলাকার বাসিন্দা জেসমিন আরা বলেন, যশোরে নারীদের জামাতে ঈদের নামাজ পড়ার সুযোগ ছিল না। ছোট বেলায় শুনেছি মেয়েরা ঢাকায় মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করে। যশোরে মডেল মসজিদ চালুর পর থেকে নারীরা নামাজের সুযোগ পাচ্ছে। এখানে ঈদের নামাজ আদায় করতে পেরে খুবই খুশি।
শাহিদা ইয়াসমিন নামে আরেক মুসল্লি বলেন, খতম তারাবি ও ঈদের নামাজ এই মসজিদে আদায় করেছি। এজন্য নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করছি। আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া আদায় করি।
সুমনা ফেরদৌস নামে আরেক নারী বলেন, আমরা পরিকল্পনা করেই বাচ্চাদের নিয়ে মসজিদে নামাজ আদায় করতে এসেছি। বাচ্চাদেরও অভিজ্ঞতা হলো। নারীদের জন্যও মসজিদে নামাজের ব্যবস্থা আছে, এটা খুবই ভাল উদ্যোগ। বিষয়টি আরো জানাজানি হলে নারীদের উপস্থিতি বাড়বে। সুযোগ পেলে মেয়েরাও বের হতে চায়, মেয়েরাও মসজিদে নামাজ আদায় করতে চায়।
যশোর জেলা মডেল মসজিদের খতিব ও ইমাম মাওলানা মহিউদ্দিন বলেন, আমাদের মসজিদে দুটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। শুধু ঈদের নামাজ নয় পাঁচওয়াক্ত, জুম্মার নামাজ ও তারাবি পড়ারও সুযোগ রয়েছে। ঈদের নামাজে নারীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মত ছিল। যশোরবাসীর জন্য এটা একটা দৃষ্টান্ত।
ইসলামি ফাউন্ডেশন যশোরের উপপরিচালক বিল্লাল বিন কাশেম বলেন, এবার জেলা প্রশাসন, ইসলামি ফাউন্ডেশন ও জেলা মডেল মসজিদের উদ্যোগে চারটি ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয়। এরমধ্যে ঈদগাহ ময়দানে দুটি ও জেলা মডেল মসজিদে দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা মডেল মসজিদে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও একই সময়ে পৃথক জায়গায় ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। শুধু ঈদের নামাজ নয়, নারীদের জন্য ওয়াক্তের নামাজ ও তারাবি নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীদের নামাজ আদায়ের বিষয়টি ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে।
যশোরের জেলা প্রশাসক আবরাউল হাছান মজুমদার বলেন, এক মাস সিয়াম সাধনার পর আজ আমরা পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছি। যশোরবাসীর পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
এফএইচ