দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানিকগঞ্জের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশেই ভাটবাউর এলাকায় ফেলা হচ্ছে পৌরসভার ময়লা আবর্জনা। এতে পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। ২০১২ সালে শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার দিঘী ইউনিয়নের ভাটবাউর এলাকার মহাসড়কের পাশে দুই এককের বেশি জায়গার ওপর নির্মাণ করা হয় এই ডাম্পিং স্টেশনটিকে। নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য না ফেলায় ডাম্পিং স্টেশনটি মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় কৃষকদের। আশপাশের প্রায় শত বিঘা জমিতে পড়েছে এর প্রভাব। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জমি থেকে বর্জ্য অপসারণ করে তা ভাগাড়ে ফেলতে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানালেও কোন কর্ণপাত করছেন না পৌর কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মানিকগঞ্জ পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশনের নির্দিষ্ট জায়গা থাকলেও সেখানে ময়লা না ফেলে আশপাশের কৃষি জমিতে ময়লা ফেলতে দেখা গেছে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের। ময়লা ফেলতে ফেলতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ছুঁই ছুঁই। পাশের কৃষিজমিতেও স্তূপ করে রাখা হয়েছে বর্জ্যগুলো। হাসপাতালের ওষুধের কাঁচের বোতল, টিউব, সুই, সিরিঞ্জ, ব্লেড, পলিথিনসহ বাসা-বাড়ির সব বর্জ্যই সেখানে বিদ্যমান। নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার কথা থাকলেও নিয়ম না মেনে ফেলা হচ্ছে আশপাশের কৃষি জমিতে। এতে করে কৃষি আবাদসহ চলাচলেও হচ্ছে নানা সমস্যা। বর্জ্যের দুর্গন্ধে ভোগান্তিতে পড়েছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পথচারীসহ আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, ডাম্পিং স্টেশন হলে পরিবেশ দূষিত হবে এই ভেবে তখন আমরা বাঁধা প্রদান করি। কিন্তু সে সময় আমাদের কোনো কথা না শুনেই তারা এখানে আড়াই একরের একটু বেশি জায়গার ওপর এটি প্রতিষ্ঠা করে। জমির ওপর একটু একটু করে ময়লা ফেলার কারণে আমি গত আট বছর ধরে কিছুই আবাদ করতে পারি না। একসময় শস্য উৎপাদনের জন্য খুবই বিখ্যাত ছিল এই চকটি। কিন্তু এই ডাম্পিং স্টেশনটি হওয়ার কয়েক বছর পর থেকে এসসব ময়লা ভেতরে না ফেলে বাইরে ফেলার কারণে বৃষ্টির পানি কিংবা বাতাসে আশপাশের জমিতে ছড়িয়ে জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রায় শত বিঘা জমি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু তাহের লিটন জানান, বিশেষ করে এই গরমের সময়ে ময়লার ভাগাড় থেকে প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধ ছড়ায়। এই গন্ধে আমাদের গ্রামের মানুষের অনেক সমস্যা হয়। পাশেই আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ, স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের দুর্গন্ধের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। আমাদের একটাই দাবি এই ভাগাড়কে দ্রুত সংস্কার করা হোক।
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার কাজী একে.এম রাসেল জানান, আমাদের বাসাবাড়ি কিংবা ক্লিনিক্যাল বর্জ্যগুলোকে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করা না হলে নানা রকমের রোগ বুদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বায়ু, মাটি, পানি দূষণসহ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। এসব ক্লিনিক্যাল বর্জ্যগুলোকে কোনোভাবেই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ছাড়া ভাগাড়ে নিক্ষেপ করা উচিৎ নয়।
মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. রমজান আলী বলেন, ডাম্পিং স্টেশনের বাইরে যেসব ময়লা আর্বজনা ফেলা হয়েছে সেগুলো আমরা অপসারণ করব। এবং নির্ধারিত জায়গায় বর্জ্যগুলো ফেলা হচ্ছে কিনা তার জন্য একজন লোক সেখানে রাখা হবে। আর খুব দ্রুতই সেখানে উন্নতমানের ডাম্পিং স্টেশন তৈরি করা হবে যেখান থেকে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক রেহেনা আকতার জানান, ডাম্পিং স্টেশনের সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করছি। এটির জন্য জমি ক্রয়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শিগগির এই সমস্যার সুরাহা করতে পারব।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৩১ আগস্ট জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। শিগগির পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশনটির সীমানা প্রাচীর তৈরি করে বাইরের বর্জ্যগুলো সেখানে স্থানান্তর করার দাবি ভুক্তভোগী কৃষক ও এলাকাবাসীর।
এফএইচ