দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাগেরহাটের মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) ভারতীয় মালিকানাধীন ভিআইপি লাগেজ ফ্যাক্টরীতে শ্রমিক ছাটাইয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভের সময় পুলিশ ও ইপিজেডের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় আড়াই ঘন্টার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে সংবাদকর্মীসহ অন্তত ৩০ শ্রমিক আহত হয়েছেন। পুলিশ ৮শ্রমিককে আটক করেছে।
সোমবার (২৫ মার্চ) বেলা সারে ১১টার পর থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত মোংলা ইপিজেডের গেটে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে ভিআইপি লাগেজ ফ্যাক্টরীর শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদের সোমবার সকাল থেকেই ফ্যাক্টরীর সামনে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই জেরে ইপিজেড ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় কারখানা ভাঙচুরেরও ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছোড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, শ্রমিক ছাটাইয়ের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মূলফটকের সামনে বিক্ষোভ করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করলে বেলা সাড়ে ১১টার পর বেপজা সিকিউরিটি ও পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেধে যায়। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় অন্তত ৩০ শ্রমিক ও কয়েকজন পুলিশ আহত হন।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ভিআইপির ৭টি প্লান্টের প্রায় ১৮শ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। সোমবার সকালে কাজে এসে এমন খবর শুনে তারা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। প্রতিষ্ঠানটির ৭টি প্লান্টের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে সেখান থেকে ইজিজেডের প্রধান ফটকে গেলে নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের আটকে দেয়। সেখান থেকে বের হতে না পেরে শ্রমিকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ভিআইপির একটি কারখানাতেও ভাঙচুর হয়।
সুবর্ণা ও তানিয়া নামের ওই কারখানার দুই নারী শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, বেতন আমরা পাইনি। আবার কাজ থেকে বাদও দিয়ে দিছে। বেতন না পাওয়ার কারণে আমরা আন্দোলন করছি। কিন্তু আমাগো ওপর হামলা করিছি। আমাগো পরেই বেশি হিংস্র হয়ে হামলা করছে। ৩০ জনের বেশি শ্রমিক আহত হইছে। আরও কে কোথায় গেছে তা কতি পারি না।
শ্রমিক বায়েজিদ বলেন, ৮ মাস ধরে এই কোম্পানিতে রয়েছি। আগে ফাঁকে কোনো নোটিশ ছাড়াই আমাদের হঠাৎ করে বের করে দিয়েছে কি করব এখন সামনে ঈদ।
সুবর্না নামের আরেক শ্রমিক বলেন, আমরা মূলত অন্য ফ্যাক্টরিতে কাজ করতাম। ভালো বেতন এবং সুযোগ সুবিধা দেওয়ার কথা বলে আমাদের এই ফ্যাক্টরিতে এনেছে। এখন ঈদের আগে আমাদেরকে বের করে দিয়েছে। কোথায় যাব কি করব, না খেয়ে মরতে হবে আমাদের। এছাড়া পুলিশ ও আনসারদের হামলায় আমাদের অন্তত ৩০ ভাই-বোন আহত হয়েছে। সুরাইয়া আক্তার নামের একজনের অবস্থা গুরুত্বর। আরও কয়েকজনকে পুলিশ আটক করেছে।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আজিজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত, শ্রমিকরা ইজিপেড ফটক ছেড়ে চলে গেছে। এর আগে কারখানা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
মূলত সকাল ৯টা থেকেই উত্তেজনা শুরু হয়। ইজিজেডের ভিআইপি লাগেজ ফেক্টরি রোববার তাদের প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। গতকাল সিদ্ধান্ত নিয়ে আজই তারা ছাঁটাই কার্যকর করেছে। প্রতিষ্ঠানটি (ভিআইপি লাগেজ) বলছে, তারা নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিকদের এক মাসের বেতন, ভাতা ও বোনাস প্রদান করেছে। তবে শ্রমিকরা বলছেন, আমরা টাকা পাইনি।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেলুর রহমান বলেন, মোংলা ইপিজেডের ভিআইপি নামের কারখানার শ্রমিকদের ছাঁটাই কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়মের মধ্যে থেকেই তারা কর্মী ছাঁটাই করছে। তবে শ্রমিকদের দাবি, তারা যথাযথ পাওনা তারা বুঝে পায়নি। এটা নিয়েই অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এর পেক্ষিতে তারা গেটে জড় হয়। আমরা তাদের বুঝাতে চেষ্টা করি তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি আদায়ের চেষ্টা করে, কোন
বিশৃঙ্খলা যেন না হয়। কিন্তু এক পর্যায়ে তারা উত্তেজিত হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ আশপাশে ভাঙচুর শুরু করে। তখন বাধ্য হয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিত পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। অধিকাংশ কর্মী চলে গেছে। অল্প কিছু দূরে এখনও অবস্থান করছে।
তবে এ বিষয়ে মোংলা ইপিজেড ও ভিআইপি লাগেজ কর্তৃপক্ষের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এফএইচ