দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহিনুর ইসলামের বিরুদ্ধে কর্তব্য কাজে অবহেলা, কর্মকর্তা,কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ, সহকর্মীদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। শাহিনুর ইসলামের এমন আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ কর্মরত ডাক্তার, কর্মকর্তা ,কর্মচারী ও নার্সরা। এতে হাসপাতালটির সুনাম ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে সম্প্রতি শাহিনুর ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, কর্মরত ডাক্তার, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সহকর্মী নার্সরা পৃথক পৃথকভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অনুবিভাগের শৃঙ্খলা শাখা।
এ বিষয়ে জানতে সোমবার ( ১৮ মার্চ) সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অনুবিভাগের শৃঙ্খলা শাখার সহকারী পরিচালক মোছাম্মৎ জরিনা খাতুনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্ত শাহিনুর ইসলাম মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বান্দুটিয়া এলাকার সুজন আলীর ছেলে।
অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহিনুর ইসলাম স্থানীয় হওয়ায় এবং নিজেকে বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা হিসেবে দাবি করে নিজের প্রভাব খাটিয়ে কর্তব্য কাজে অবহেলা করেন। এছাড়া চিকিৎসক,নার্সসহ হাসপাতালের কর্মরত ডাক্তার, কর্মকর্তা ,কর্মচারী ও সহকর্মী নার্সদের সাথে, কর্মকর্তা,কর্মচারীদের সাথে অসদাচরণ, সহকর্মীদের শারীরিক ভাবে হেনস্তা করে আসছে। এ বিষয়ে ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছিলো। যে কাড়নে সে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমাও চেয়েছিল। দুই বছর আগে তাকে প্রশাসনিক কারনণে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সে পুনরায় মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে সংযুক্ত হলে ১৫০ টাকার স্ট্যাম্পে চাকুরী-বিধি বহির্ভূত কোনো কাজ ভবিষ্যতে করবে না মর্মে মুচলেকা দেয়। তারপরও তার আচরণের কোনো পরিবর্তন হয় নাই । প্রতিনিয়ত হাসপাতালের কর্মরত ডাক্তার, কর্মকর্তা ,কর্মচারী ও সহকর্মী নার্স, কর্মকর্তা,কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ, সহকর্মীদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করে আসছে। এছাড়া হাসপাতালে আগত রোগীদের বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে কমিশন গ্রহণ, সরাসরি টাকা নেওয়া, হাসপাতালে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সহজ সরল লোকদের নিকট থেকে টাকা নেওয়া, বিভিন্ন ওয়ার্ড ইনচার্জকে জিম্মি করে চাঁদা আদায় করারও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে অসদাচরণসহ নানা অভিযোগে শাহিনুরের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তত্ত্বাবধায়কের পক্ষে মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট মো. হাবু মিয়া। যা আদালতের মাধ্যমে তদন্তাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহিনুর ইসলামের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তুলেছেন তা সত্য নয়।
বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহিনুর ইসলামের বিরুদ্ধে কর্তব্য কাজে অবহেলা, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ, সহকর্মীদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করাসহ নানা অভিযোগ আসায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অনুবিভাগের শৃঙ্খলা শাখার সহকারী পরিচালক মোছাম্মৎ জরিনা খাতুন জানান, মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের অভিযুক্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহিনুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এক নার্সের দাপটে হুমকিতে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা! শিরোনামে সম্প্রতি দেশ টিভিতে একটি সংবাদ প্রচার হয়।