দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলায় ১৩৩টি ইটভাটা রয়েছে। জেলার ১৩৩টি ইটভাটার এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইটভাটা রয়েছে রায়গঞ্জ উপজেলায় ৬২টি, উল্লাপাড়ায় ৩১টি, শাহজাদপুরে ১৯টি, সিরাজগঞ্জ সদরে ৯টি, তাড়াশে ৬টি, কাজিপুরে ৩টি, কামারখন্দে ২টি ও বেলকুচিতে ১টি। ইটভাটাগুলোর মধ্যে কোনোটির লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণ আর কোনোটির লাইসেন্সই ছিল না কখনও।
এভাবেই দিনের পর দিন, বছরের পর বছর সবাইকে ম্যানেজ করেই চলছে এসব ইটভাটাগুলো। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাহাড়, বন ও জলাভূমির এক কিলোমিটার এলাকা এবং কৃষিজমিতেও কোনো ইটভাটা করা যাবে না বলা থাকলেও এসব কোনো আইনই মানছেন না ইটভাটা মালিকরা।
আর এসব ইটভাটা থেকে যে বিষাক্ত উপাদান ও ধোয়া নির্গত হয় সেটি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক এবং মানবদেহের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
স্থানীয় রাজনীতিবিদ, ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালীদের মালিকানার ছত্রচ্ছায়ায় এসব ইটভাটা চলছে।
গত বছর কয়েকটি ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসন অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম বন্ধ ও জরিমানা করলেও কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবার সেগুলো চালু হয়েছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন ক্লিন সিরাজগঞ্জ গ্রিন সিরাজগঞ্জ এর প্রতিষ্ঠাতা আশিক ইসলাম জানান, ইটভাটাগুলো কার্বন কণা সমৃদ্ধ সাসপেন্ডেড পার্টিকুলেট ম্যাটার, কার্বন মনোক্সাইড ও সালফার অক্সাইডের উচ্চ ঘনত্বযুক্ত বিষাক্ত ধোঁয়া নির্গত করে, যা পরিবেশের ভারসাম্য এবং মানবদেহ; বিশেষ করে চোখ, ফুসফুস ও গলার জন্য ব্যাপক ক্ষতিকর।
প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন মাহবুবুল ইসলাম পলাশ। তিনি বলেন, পরিবেশ ও জমি দূষন রোধে সবাইকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে। ইটভাটার ধোয়ায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে, ফলমূলের ক্ষতি হচ্ছে। এ কারণে অদূর ভবিষ্যতে এদেশে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এসব অবৈধ ইটভাটার কালো ধোয়ায় কৃষিজমিতে যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে এর কারণে এই অঞ্চলের খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা।
রায়গঞ্জ ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম হোসেন শোভন সরকার, আমরা জেলা প্রশাসনের সকল আইন মেনে ইটভাটা পরিচালনা করছি। শুরু পরিবেশরে ছাড়পত্র নেই। কিছু ইটভাটার লাইসেন্স ছিল না, পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে জরিমানা করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ভাটা গুড়িয়ে দিয়ে প্রশাসন।
রায়গঞ্জ ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ খান, ইটভাটা পরিচালনার জন্য অন্যান্য সকল লাইসেন্স আমাদের রয়েছে। পরিবেশের ছাড়পত্র ছিল এখন নেই কিন্তু ছাড়পত্রের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।
আর সিরাজগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল গফুর জানান, আমরা কাজের তৎপরতা বাড়িয়েছি, ভাটাগুলোর আইনগত কাঠামো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে বেশ কয়েকটি ইটভাটায় জরিমানা করা হয়েছে এবং গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বছর সিরাজগঞ্জের ২১টি ইটভাটায় ৫৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জেবি