দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জামালপুরে যৌতুকের দাবিতে এক নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। নির্যাতিতা নারী জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ঘটনাটি গত সোমবারের হলেও ভয়ভীতির কারণে গতকাল মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনায় নির্যাতিতের বড় বোন বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার আসামি অভিযুক্ত শিক্ষকের বাবা আশিককে গ্রেপ্তার করেছে। মামলার প্রধান আসামি স্কুলশিক্ষক আল-আমীনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
জামালপুর সদর উপজেলার মেষ্টা ইউনিয়নের মুল্লিকপুর গ্রামের আশেক আলীর ছেলে শাহবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আল আমীনের সঙ্গে ১০ মাস আগে বিয়ে হয় মেলান্দ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের নাগেরপাড়া গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী আব্দুল মান্নানের মেয়ে নিশি আক্তারের। বিয়ের সময় নগদ ৫ লাখ টাকা, একটি মোটরসাইকেল, আসবাবপত্র ও মোবাইলসহ স্বর্ণালঙ্কার যৌতুক দেওয়া হয়। গত তিন দিন ধরে শহরের গেইটপাড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় উঠেন। এরপর থেকেই আলআমীন আরও ৫ লাখ টাকার জন্য মারধর ও নির্যাতন শুরু করে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আলআমীন নিশিকে মারধর করার একপর্যায়ে গরম পানি শরীরে ঢেলে দেয়। তার শরীরের ৯০ ভাগ ঝলসে যায়। এ অবস্থায় তাকে ঘরে তালা বদ্ধ করে রেখে দেওয়া হয়। গতকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি তার অবস্থার অবনতি হলে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে রেখে আল আমীন পালিয়ে যায়। পরে নিশি মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে ঘটনা জানানোর পর তারা এসে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
নিশি আক্তার বলেন, সে প্রায় সময় মারধর করতো। রান্নায় লবণ কম হলে মারতো। ঘটনার দিন ৫ লাখ টাকার জন্য চাপ দিলে দুজনের মধ্যে কথাকাটি হয়। একপর্যায়ে তার গলা চেপে ধরে, মুখে গামছা গুজে মারপিট করে। পরে শরীরে গরম পানি ঢেলে দেয়।
নিশির মা বলেন, বিয়ে দেওয়ার পর থেকে অনেক অত্যাচার করে। জোর করে বিয়ে করে। অনেক যৌতুক দিছি। ফার্নিচার, গাড়ি, গয়নাসহ সব দিছি। আমার মেয়েকে গরম পানি ঢাইলে পুড়া দিছে। তাও আমি জানতাম না। মেয়ে ফোন দিছে ছবি দিছে। আমি দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, মেয়েটির শরীরের ২০ শতাংশ পুড়ে গেছে। হাসপাতালে অনেক দেরিতে আসায় শরীরে আরও বেশি ক্ষতি হয়েছে। তবুও আমরা আমাদের সাধ্যমতো চিকিৎসা সেবা দিয়েছি।
জামালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মহব্বত কবির বলেন, এই ঘটনায় মেয়েটির বড় বোন বাদী হয়ে আজ রাতে জামালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সহকারী শিক্ষক আল আমিনসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার শোনার পর থেকেই আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।
মুহাম্মদ মহব্বত কবির আরও বলেন, মঙ্গলবার রাতে জামালপুর শহরের গেইটপাড় এলাকা থেকে আল আমিনের বাবা আশেক আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও আল আমিনকে গ্রেপ্তার করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।
জেবি