দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

একাধিক নাশকতা মামলার প্রধান আসামি মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা যুবদলের সভাপতি ও জেলা বিএনপি নেতা আলাল উদ্দিন। আর এই যুবদল নেতাকে নিয়েই বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শিবালয় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনের প্রচার চালাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম খান। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের মধ্যে চলছে নানা সমালোচনা। এতে জেলায় আওয়ামী রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পরতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।
অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও রহিম খানের মদদে এক বাহিনী তৈরি করে আরিচা ও পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকা দখলে রাখে ওই যুবদল নেতা আলাল। সম্প্রতি মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটে চাঁদা আদায় নিয়ে আলাল উদ্দিন নামের যুবদল নেতার সঙ্গে হ্যালোবাইক মালিকদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এ সময় ভাঙচুর করা হয়েছে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় অবস্থিত যুবদল কার্যালয়। আলাল উদ্দিন শিবালয় উপজেলা যুবদলের সভাপতি ও উপজেলার দাসকান্দি এলাকার হালিম শেখের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, ২০১৫ সালে দেশব্যাপী বিএনপির আগুন সন্ত্রাসকালে পাটুরিয়ায় গাড়ি পোড়ান যুবদল নেতা আলাল। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রহিম খানের আপন ভাগনে। মামার পরিচয়ে যুবদলের রাজনীতি করেও পাটুরিয়া ঘাটে চাঁদাবাজির আখড়া তৈরি করে আলাল। আলালের বিরুদ্ধে রয়েছে মন্দির ভাঙচুরসহ একাধিক নাশকতা মামলাও। এই আলালের বাহিনীকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের জমি দখলসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার মামা আওয়ামী লীগ নেতা রহিম খানের বিরুদ্ধেও ।
নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে পাটুরিয়া ঘাট শ্রমিক লীগের একাধিক নেতারা জানান, শিবালয় উপজেলা যুবদলের সভাপতি আলাল উদ্দিন বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি করে পাটুরিয়া ঘাটের সব কিছু তাদের দখলে নিয়ে সাধারণ মানুষদের জিম্মি করে রামরাজত্ব চালাচ্ছিল।
পাটুরিয়া ঘাটের পাবলিক টয়লেটের দায়িত্বও তাদের কাছে। দিন দিন তাদের চাঁদাবাজি বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে সম্প্রতি ঘাট এলাকায় যুবদল কার্যালয় ভেঙে ফেলা হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতা রহিম খান তাকে নিয়েই বিভিন্ন সভা সমাবেশ ও আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনি প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। সেইসঙ্গে ঘাট এলাকা দখলে নিতে চালাচ্ছে নানা কৌশল।
এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা যুবদলের সভাপতি আলাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি কোনো চাদাঁবাজির সঙ্গে জড়িত নন। তার বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে তা রাজনৈতিক মামলা। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগ নেতা রহিম খান সম্পর্কে মামা হন। তাই তার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে আওয়ামী লীগ নেতা রহিম খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম বলেন, বিভিন্ন সময় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে রহিম খানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কথা শুনেছি। আওয়ামী লীগ দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল। আর ব্যক্তির দায়ভার এই দল কখনোই নিবে না।
জেবি