দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জোরপূর্বক মায়ের দোকান দখলে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে তিন ছেলের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন এক অসহায় মা।
মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) সদর মডেল থানায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়। সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের হোয়াজের বাড়ির মৃত আবদুল হাইয়ের স্ত্রী আমেনা খাতুন তার এই মামলায় আপন তিন ছেলে আবুল খায়ের (৫২), মো. ইমরান হোসেন (৪৫) ও মোশারফ হোসেন (৪০) ছাড়াও তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নাটাই গ্রামের আবদুর রশিদ মিয়ার ছেলে মিজানুর রহমানকে (৪০) আসামি করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বাদী আমেনা খাতুন আমৃত্যু বটতলী বাজারের আটটি দোকানের ভাড়া ভোগ দখল করবেন এই শর্তে তার স্বামী আবদুল হাই তাদের ৫ ছেলের নামে মালিকানা হস্তান্তর করেন। ছেলেরাও মায়ের ভাড়া ভোগ দখলের বিষয়ে অঙ্গীকারনামা প্রদান করে। এই অবস্থায় গত ২০ জানুয়ারি সকালে ৩ ছেলে আবুল খায়ের, ইমরান হোসেন ও মোশারফ হোসেন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের নিয়ে মায়ের ভোগ দখলে থাকা দোকানগুলো দখল করতে ভাঙচুর চালায়। ওইসব দোকানে থাকা ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীদের মালামাল লুটপাট করে নেয়। ভাঙচুর-লুটপাটের সময় বাড়িতে মা আমেনা খাতুনকে একটি ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং গলায় ছুরি ধরে গলা কেটে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
বেদম মারধর করে গুরুতর আহত করে তাদের আরেক ভাই মো: আলী হোসেনকে। হামলাকারীরা ওইসব দোকান ঘরের একটির ভাড়াটিয়া রাহিম মিয়ার আইসক্রিম ফ্যাক্টরি থেকে মোটর, ফ্রিজ এবং অন্যান্য মেশিনারীজসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেয়। আরেকটি দোকানঘরের ভাড়াটিয়া আশরাফুল ইসলামের ডেকোরেটর থেকে দুই লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেয়।
আরমান খানের ওষুধের দোকানে ঢুকে ১ লাখ টাকার ওষুধ নষ্ট করে। লোকমানের ফাস্টফুডের দোকান ভাঙচুর করে ২ লাখ টাকার ক্ষতি করে। এছাড়া মো. শাহাব উদ্দিনের দোকান, শাহ জামালের খাবার হোটেল এবং রেহান উদ্দিনের চায়ের দোকান ভাঙচুর করে আরও লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে।
পাকা দোকান ঘর ভাঙচুরের মাধ্যমে ৫০ লাখ টাকার স্থায়ী সম্পদের ক্ষতি করা হয়। পরে এই ঘটনায় কোনো মামলা-মোকদ্দমা করলে মা আমেনা খাতুন ও ভাই আলী হোসেনকে খুন করে লাশ ঘুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম হোসাইন জানান, মামলার তদন্ত চলছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছেন তারা।
জেবি