দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে নির্বাচনি প্রচারণা ও ব্যক্তিগত গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করায় মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেককে সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন।
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করে সত্যতা পায় ইসি।
বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জের সিনিয়র সহকারী জজ ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান শর্মিষ্ঠা বিশ্বাসের আদালতে এ সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জাহিদ মালেকের মনোনীত আইনজীবী তার পক্ষে অভিযোগের ব্যাখ্যা দেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) মানিকগঞ্জ-৩ আসনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেককে শোকজ করা হয়। এরপর গত বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) শোকজের লিখিভাবে জবাব দেন জাহিদ মালেকের মনোনীত আইনজীবী।
আদালতের পেশকার রুবেল মাহমুদ জানান, শোকজের লিখিত জবাবের পর বৃহস্পতিবার(২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে প্রার্থীর (জাহিদ মালেক) মনোনীত আইনজীবীর সামনে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বরাবর শোকজের জবাব পাঠানো হয়।
এদিকে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাহিদ মালেক গত ২৫ ডিসেম্বর নির্বাচনি এলাকা সাটুরিয়া উপজেলার ফুকুরহাটি ইউনিয়নের মজিবর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও একই উপজেলার ফুকুরহাটি ইউনিয়নের পৃথক কয়েকটি নির্বাচনি জনসভায় অংশ গ্রহণ করেন।
এসময় ব্যক্তিগত গাড়িতে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে এবং রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ব্যবহার করে নির্বাচনি প্রচারণা চালান। যা নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা ২০০৮ এর ১৪ বিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়। যা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা-২০০৮ এর ১৪ বিধি অনুযায়ী সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তার সরকারি কর্মসূচির সঙ্গে নির্বাচনি কর্মসূচি বা কর্মকাণ্ড যোগ করতে পারবেন না এবং সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তার নিজের বা অন্যের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় সরকারি যানবাহন, সরকারি প্রচারযন্ত্রের ব্যবহার বা অন্যবিধ সরকারি সুবিধাভোগী করতে পারবেন না।
এমনকি সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী বা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ব্যবহার করতে পারবেন না।
এই কাজের মাধ্যমে তিনি সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০০৮ এর ১৪ বিধি লঙ্ঘন করেছেন।
ইসির শোকজের জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকায় নির্বাচন সংক্রান্ত প্রচারণায় আমার ব্যক্তিগত গাড়ি, ব্যক্তিগত জ্বালানি ব্যয় বহন এবং ব্যক্তিগত ড্রাইভার ব্যবহার করি। আমি কোনো সরকারি গাড়ি, সরকারি জ্বালানি এবং সরকারি ড্রাইভার ব্যবহার করি না।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনি প্রচারণায় মন্ত্রীর গাড়িতে রাষ্ট্রীয় পতাকা থাকবে কি না এবং রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ব্যবহার করতে পারবো কি না সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা বা দিক নির্দেশনা পাইনি। বিষয়টি আমার অজানা ছিল।
জাহিদ মালেক বলেন, আমি গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে আমার নির্বাচনি কাজে ব্যবহৃত গাড়িতে রাষ্ট্রীয় পতাকা ব্যবহার বন্ধ করে এবং রাষ্ট্রীয় প্রটোকল নেওয়া বন্ধ করে প্রচারণা এবং গণসংযোগ করছি।
তিনি বলেন, ইসির নোটিশের বিষয়ে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়ে থাকলে তা আমার জানার অজান্তে হয়েছে। আমি যথাযথভাবে নির্বাচনি আচরণবিধি পালন করে প্রচারণা এবং গণসংযোগ করব।
ডিপি/