দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-১ (সদর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর মতবিনিময় সভায় ‘নৌকাওয়ালারা পালানোর জন্য জায়গা পাবে না’ বলা মাধবদী থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলামকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। অব্যাহতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে স্বপদে বহাল করেছেন সাধারণ সম্পাদক।
মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জি এম তালেব হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক পীরজাদা কাজী মোহাম্মদ আলীর সই করা পৃথক চিঠির মাধ্যমে সিরাজুলকে প্রথমে অব্যাহতি ও পরে স্বপদে বহাল করা হয়।
এবারের নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নৌকার প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম হীরুর পক্ষে কাজ করছেন। আর সাধারণ সম্পাদক কাজ করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুলের পক্ষে।
জিএম তালেব চিঠিতে বলা হয়, মাধবদী থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কামরুজ্জামানের পক্ষে কাজ করছেন। ‘নৌকার লোকেরা পালাবার পথ খুঁজে পাবে না’ বলে হুমকিও দিয়েছেন, যা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের মধ্যে পড়ে। তার এমন বক্তব্য দলীয় নেতাকর্মী ও জনসাধারণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
সংগঠনবিরোধী এমন কার্যক্রমের কারণে তাকে মাধবদী থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। তাকে কেন দল থেকে থেকে বহিষ্কার করা হবে না, ৭ দিনের মধ্যে সে বিষয়ে জবাব দিতেও বলা হয়েছে।
সাধারণ সম্পাদক পীরজাদা কাজী মোহাম্মদ আলীর সই করা আরেক চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যে দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এবং সমর্থন করার বিষয়ে দলীয়ভাবে কোনো বিধিনিষেধ নেই। স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক; তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী নন। তাই তার পক্ষে কেউ কাজ করলে সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।
সেজন্য তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সভাপতির একক ও ব্যক্তিগত, যা গ্রহণযোগ্য বা কার্যকর নয়। আপনি (সিরাজুল ইসলাম) স্বপদে বহাল রয়েছেন।
এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জি এম তালেব হোসেন বলেন, সাধারণ সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে কাজ করছেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ হয়ে কথা বলছেন। সিরাজুল ইসলামের বক্তব্য নৌকার জন্য হুমকি, নেত্রীর জন্য হুমকি, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জন্য হুমকি। এজন্য তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পীরজাদা কাজী মোহাম্মদ আলী বলেন, কোনো মিটিং না ডেকে এককভাবে কাউকে অব্যাহতি দেওয়ার অধিকার সভাপতির নেই। তিনি আমার সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেননি আর কোনো মিটিংও ডাকেননি। তিনি একক ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে অব্যাহতি দিয়ে পারেন না।
এর আগে, বুধবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে মাধবদী পৌরসভা মিলনায়তনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুলের মতবিনিময় সভা হয়। সেখানে সদর আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরুর (বীর প্রতিক) লোকজনকে উদ্দেশ্য করে সিরাজুল ইসলাম বলেন, আপনারা যখন জানবেন মাধবদীর মেয়র মোশারফ হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল ভাইয়ের জন্য নামছেন, তখন কেউ বাঁধা দিয়ে রাখতে পারবেন না। কাল থেকে নৌকাওয়ালারা পলাইবার জন্য জায়গা পাবে না।
এই বক্তব্য শুনে উপস্থিত লোকজন হাসাহাসি শুরু করলে তিনি নিজের বক্তব্য সংশোধন করে বলেন, নৌকা বলিনা আমরা হীরুর নৌকা বলি, হীরু..। হীরুর লোকেরা পলাইবার জায়গা পাবেনা। এই নরসিংদীতে ৭ তারিখে যে জাগরণ সৃষ্টি হবে, সেই জাগরণের পরিণতিতে কামরুল ভাই (স্বতন্ত্র প্রার্থী) বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।
মাধবদী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলামের এমন হুমকিমূলক বক্তব্যের জেরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীর মধ্যে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে শুরু হয় পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা। এর ভিডিও চিত্র জাতীয় গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
যার পরিপ্রেক্ষিতে জনৈক মালিক মোহাম্মদ রাজিব নামে এক ব্যক্তি রিটার্নিং অফিসার বরাবর একটি অভিযোগ দাখিল করেন।
পরে নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংসদীয় আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা সুলতানা নাসরীন বৃহস্পতিবার রাতে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেন। নোটিশে এ বক্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচনি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, জানতে চাওয়া হয়েছে।
নোটিশ পাওয়ার দুইদিনের মধ্যে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে তাকে হাজির হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়।
জেডএ