দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কক্সবাজারের রামুতে আইনজীবী ছেলের দায়ের করা মামলায় ৭০ বছর বয়সী বাবাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গত বুধবার (২০ ডিসেম্বর) কক্সবাজারের অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কৌশিক আহমেদ এ আদেশ দেন।
কারাগারে থাকা বাবা মো. হাছান (৭০) রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড উখিয়ারঘোনা লামারপাড়ার মৃত হাকিম আলীর ছেলে। এ মামলায় মো. হাছানের চাচি রাশেদা বেগম এবং তার ছেলে নুরুল আবছারকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বাদী অ্যাডভোকেট আয়াত উল্লাহ হোমিনির সঙ্গে বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কথা হয় দেশ টিভির। এ সময় তিনি জানান, মামলার এজাহারে আমি বাবার নাম দেইনি। কিন্তু পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত ও স্বাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বাবার নাম তদন্ত প্রতিবেদনে যুক্ত করেন।
এদিকে আদালতে জামিন প্রার্থনার সময় বিচারক মো. হাছানকে জামিন দেওয়া যাবে কিনা বাদী হিসেবে হোমিনির কাছে জানতে চাইলে তিনি আদালতকে বলেন, জামিন দেওয়া না দেওয়া আদালতের এখতিয়ার।
এদিকে মামলার অভিযুক্ত মো. হাছানের দ্বিতীয় স্ত্রী রেহেনা বেগম জানান, তার নাবালক ৫ সন্তানের ভবিষ্যতের সুরক্ষায় তার স্বামী সন্তানদের নামে কিছু জমি হেবা করে দেন। এছাড়া পুরনো বাড়ি-ভিটেসহ আরও কিছু জমি প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের নামে হেবা করে দেন। একারণে প্রথম স্ত্রী ও তাদের সন্তানরা তাকে ৫ নাবালক সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেন। এতে নিরুপায় হয়ে তিনি তাদের নামে হেবাকৃত জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি বাড়ির নির্মাণ কাজ শুরুর সময় তাদের ওপর প্রথম স্ত্রীর সন্তান অ্যাডভোকেট আয়াত উল্লাহ হোমিনি ও তার ভাই ওমর ফারুক, তৈয়ব উল্লাহ, হাবিব উল্লাহসহ অন্যান্য সহযোগিরা হামলা চালান বলে দাবী করেন রেহেনা বেগম।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনার পর তার স্বামী মো. হাছান রামু থানায় প্রথম স্ত্রীর সন্তান অ্যাডভোকেট আয়াত উল্লাহ হোমিনিসহ ৭ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। যে মামলাটি এখনও রামু থানায় তদন্তাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় আয়াত উল্লাহ হোমিনি আদালতে নিজেরা ভুক্তভোগী দাবি করে পাল্টা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদনের পর জামিন নিতে গেলে আদালত মো. হাছান, চাচি রাশেদা বেগম ও চাচাতো ভাই নুরুল আবছারকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বাদী আয়াত উল্লাহ হোমিনি জানান, রামুতে ঘটনা চলাকালে তিনি কক্সবাজার শহরে ছিলেন। হামলায় তার ভাই-বোন গুরুতর আহত হন। তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের দেয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করেই তিনি ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন।
পরবর্তীতে সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তে প্রাপ্ত নতুন ৩ জনসহ ১২ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (সিএস) দায়ের করেন। বাদী হোমিনি মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে পিতার নাম না দিলেও সিআইডির তদন্তে আসামী হিসেবে উঠে আসে তার নাম।
ডিপি/