দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দরিয়ানগর সৈকত এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া লাশের পরিচয় মিলেছে।
বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে দরিয়ানগর পয়েন্টে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া তরুণের নাম সাগর হোসেন (১৮)। তিনি নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ছাতমা গ্রামের আলম মণ্ডলের ছেলে।
কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কায়সার হামিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাগর হোসেন রাজশাহী শাহ মখদুম কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ৪ ডিসেম্বর তিনি গ্রামের বাড়ি এসেছিলেন। তবে কীভাবে কার সঙ্গে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন তা পরিবারের কেউ জানাতে পারেননি। পরিবারে বাবা-মাসহ তার পাঁচ বছরের বোন রয়েছে। সাগরের লাশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে কক্সবাজারে রওয়ানা দিয়েছেন তার বাবাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।
সাগরের মামা হেলাল উদ্দিন জানান, গতকাল বুধবার দুপুরে ফেসবুকে ভিডিও দেখে তিনি ভাগনে সাগরকে চিনতে পারেন। বাড়ির কাউকে কিছু না জানিয়ে কার সঙ্গে তিনি কক্সবাজারে গেলেন তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
সাগরের মা দোলেনা বেগম বলেন, অনেক কষ্ট করে মানুষের কাজ করে ছেলেটিকে পড়াশোনা করাচ্ছিলাম। ছেলের পড়াশোনায় কোনো সমস্যা যেন না হয়, সেজন্য এনজিও ও ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে প্রতি মাসে টাকা পাঠিয়ে দিতাম। পড়াশোনায় ভালো হওয়ায় প্রতিবেশীরাও সহযোগিতা করত। আমার ছেলের স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। তার সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। বলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
দোলেনা বেগম আরও বলেন,‘আমার ছেলেকে সেখানে কে নিয়ে গেল, কীভাবে নিয়ে গেল, তার সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। আমার সোনার মানিকতো আর ফিরে আসবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কায়সার হামিদ জানান, পরিবারের সদস্যরা লাশ নেওয়ার জন্য রওয়ানা দিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।
জেবি