দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পৈতৃক পেশার সূত্র ধরে নিজেও অস্ত্র তৈরির দক্ষ কারিগর হয়ে উঠেছিল মনিরুল হক। এরপর কক্সবাজারের ঈদগড়ের গহীন পাহাড়ে গড়ে তোলে কারখানা। যেখানে চট্টগ্রাম এবং ঢাকা থেকে সরঞ্জাম এনে অস্ত্র তৈরি করা হতো। এরপর বনে যান পাহাড়ের ভেতরে গড়ে উঠা কারখানাটির মালিক ও প্রধান অস্ত্র কারিগর।
কক্সবাজারের রামুর ঈদগড়ে এমন একটি অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পায় র্যাব। তবে র্যাবের অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে যায় মনিরুল হক।
র্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে কারখানা গড়ে তুলে অস্ত্র তৈরি করে আসছিল একটি চক্র। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কারখানা থেকে দুজন এবং বসতবাড়ি থেকে দুজনকে আটক করা হয়।
সাজ্জাদ হোসেন দাবি করেন, আটককৃতদের মধ্যে মাঈন উদ্দিন পেশায় একজন পল্লীচিকিৎসক। তিনিই মিডিয়াম্যান হিসেবে কাজ করতেন। মাঈন উদ্দিন এবং জাফর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছ থেকে ডিমান্ড নিয়ে মনিরুল হককে জানাতো। তারপর চাহিদা অনুযায়ী অস্ত্র তৈরি করে সরবরাহ করত। প্রতিটি অস্ত্রের দাম পড়তো ৩০-৫০ হাজার টাকা।
নির্বাচনকালীন সময়ে অস্ত্রের চাহিদা বেড়েছে জানিয়ে র্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা, নবী হোসাইন গ্রুপসহ বিভিন্ন ডাকাত, অপহরণের সঙ্গে জড়িত গ্রুপের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করা হতো এই কারখানা থেকে। নির্বাচনকালীন অস্ত্রের চাহিদা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।
বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) ভোরে ঈদগড় ইউনিয়নের ছগিরাকাটা তুলাতলী পাহাড়ে এই অস্ত্র কারখানার সন্ধান পায় বলে জানায় র্যাব-১৫।
বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে ঈদগড়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে র্যাব। এ সময় র্যাব-১৫ এর অধিনায়ক বলেন, অভিযানে আটক করা হয় মাঈন উদ্দিন, জাফর আলম, লাল মিয়া ও সাহাবউদ্দিন নামের চারজনকে। উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ ১০টি অস্ত্র ও ২২ রাউন্ড গুলি।
সন্ত্রাস নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এমন অভিযান অব্যাহত রাখা হবে বলে জানায় র্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন।
এদিকে ঈদগড় সড়কে অপহরণ এবং ডাকাতির জন্য সবসময় আলোচনায় থাকে। সেখানকার মানুষ আতঙ্কে চলাচল করে সড়কটি দিয়ে।
জেবি