দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যশোরে এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে দেড় ঘণ্টা আটকে রেখে শারীরিকভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলা পরিষদের মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে।
বুধবার রাতে (৮ নভেম্বর) ঘটনাটি ঘটলেও বিষয়টি শুক্রবার জানাজানি হয়েছে। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ নুরুল আমিন যশোর আদর্শ বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তার অভিযোগের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি জিডি করেছেন ওই প্রধান শিক্ষক।
জানা যায়, আগামী ডিসেম্বরে যশোর আদর্শ বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হবে। নিয়ম অনুযায়ী কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেন প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালয়টির কয়েক শ' গজ দূরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদ চৌধুরীর বাড়ি। ফলে বিদ্যালয়টিতে সভাপতি হতে চান ফরিদ চৌধুরী। কিন্তু ফরিদ চৌধুরীকে সভাপতির পদ নিশ্চিত না করে নির্বাচন করার উদ্যোগ নেওয়ায় ক্ষিপ্ত হন তিনি। এজন্য প্রধান শিক্ষককে একাধিকবার ফোন করে ও ক্যাডার পাঠিয়ে গালাগালি করেন উপজেলা চেয়ারম্যান।
ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, বিদ্যালয়টিতে সম্প্রতি তিনজন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি তাদের নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু নিয়োগের আগেই উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী প্রধান শিক্ষককে একাধিকবার ফোন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করার জন্য বলেন। পরবর্তীতে নিয়োগ হয়ে গেলে উপজেলা চেয়ারম্যান ফোন করে প্রধান শিক্ষককে নিয়োগপ্রাপ্তদের তার বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে নির্দেশ দেন। কিন্তু কর্মচারীরা না যাওয়াই মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী প্রধান শিক্ষকের ওপর ক্ষিপ্ত হন। তিনি একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি তার ক্যাডারদের স্কুলে পাঠিয়ে প্রধান শিক্ষককে হুমকি দেন। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে গত বুধবার সকাল ১০টার দিকে প্রধান শিক্ষক উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবনে যান। প্রধান শিক্ষক সেখানে গেলে তার দোতলার বাসভবনে নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান তাকে গালাগালি করেন। পরে তার নিচের অফিসে বসে থাকা ক্যাডারদের ওপরে ফোন করে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করতে নির্দেশ দেন। মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী উপস্থিতিতে ওই ক্যাডাররা দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে প্রধান শিক্ষককে নির্যাতন করেন। তারা প্রধান শিক্ষকের গোপানাঙ্গ টিপে ধরে। মাথা, ঘাড়, মুখসহ বিভিন্ন স্থানে কিল, ঘুষি মারতে থাকেন। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমি জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় আছি। শিক্ষকতা জীবনে আমি কোনো অন্যায় করিনি। নিষ্টার সঙ্গে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। আর এই বয়সে এসে আমি একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন নির্যাতনের শিকার হবো, তা কখনো কল্পনাও করিনি। আমার বিচার চাওয়ার ভাষা নেই। হত্যার হুমকির হুলিয়া নিয়ে দিন পার করছি। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া কারও কাছে বিচার চাইতেও পারছি না। আমি প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করে ন্যায় বিচার কামনা করছি।’
অভিযোগের বিষয়ে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, ওই শিক্ষক মাঝেমধ্যে তার কাছে এলেও ৮ তারিখে আসেননি। তিনি রাজনৈতিকভাবে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন দাবি করে বলেছেন, আমি কাউকে নির্যাতন করিনি। সবই বানোয়াট। বিদ্যালয়ের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় স্থানীয়রা চান, আমি নতুন কমিটির সভাপতি হই। সম্প্রতি সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ আমাকে বিদ্যালয়ের সভাপতি হওয়ার জন্য ডিও লেটার দিয়েছেন। আমি প্রধান শিক্ষক নূরুল আমিনের কাছে তা দিয়েও এসেছি।
এম