দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট না দেওয়াতে বয়োবৃদ্ধ নেওয়ারুন বেগমকে মৃত দেখিয়ে তার বয়স্ক ভাতার কার্ড বাতিল করে অন্য একজনকে কার্ড বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিরুদ্ধে।
বিগত ৯ মাস যাবত তিনি বয়স্ক ভাতা বঞ্চিত। নেওয়ারুন বেগমসহ আরও কয়েকজনকে মৃত দেখিয়ে অন্যজনকে বয়স্ক ভাতার কার্ড বরাদ্দ ঘটনাটি মৌলভীবাজারের বড়লেখায়।
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দাসেরবাজার ইউনিয়নের পশ্চিম শংকরপুর গ্রামের মৃত রজব আলীর স্ত্রী নেওয়ারুন বেগম। হতদরিদ্র নেওয়ারুন প্রতিবন্ধী ছেলের সংসারে থাকেন। কয়েক বছর থেকে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে বয়স্ক ভাতা পেয়ে আসছিলেন। গত নয় মাস ধরে ভাতা না পাওয়ার কারণ জানতে তিনি স্বশরীরে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে হাজির হন। তখন জানতে পারেন দাসেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান স্বপন কুমার চক্রবর্তী ও তিন নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান তার মৃত্যুর সনদ জমা দিয়ে তার স্থলে বয়স্ক ভাতার কার্ড সমাজসেবা কার্যালয় থেকে অন্য একজনের নামে প্রতিস্থাপন করিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন ভাতা বঞ্চিত নেওয়ারুন বেগম।
হতদরিদ্র নেওয়ারুন বেগমের তিন ছেলে- মেয়ে থাকলেও প্রতিবন্ধী ছেলে তাজ উদ্দিনে সংসারে থাকেন। তাজ উদ্দিনের দুই সন্তানও প্রতিবন্ধী।
সরেজমিনে নেওয়ারুন বেগমের সঙ্গে কথা হয়। এ সময় তিনি বলেন, আমি জীবিত থাকার পরও চেয়ারম্যান মেম্বার আমাকে মৃত দেখাল। আমি গরিব মানুষ প্রতিবন্ধী ছেলের সংসারে কোনোরকম খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে, এই টাকা দিয়ে ওষুধ খেয়ে বেঁচে আছি। আমি মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এর বিচার চাই।
নেওয়ারুন বেগমের ছেলে তাজউদ্দিন বলেন, আমার মায়ের বয়স প্রায় ৯০ বছর। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি আমার সংসারে আছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে বয়স্ক ভাতা পেয়ে আসছিলেন। কিন্ত গত নয় মাস ধরে ভাতা পাচ্ছিলেন না। কারণ জানতে সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারি আমার মা মৃত। জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে তার পরিবর্তে দাসেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপন কুমার চক্রবর্তী ও আমাদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুর রহমান অন্য একজনকে বয়স্ক ভাতা পাওয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন। যার কারণে আমার মায়ের ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু আমার মা এখনও জীবিত। তিনি এখনও চলতে-ফিরতে পারেন। আমরা এই ঘটনার ন্যায়বিচার চাই।
শুধু জীবিত নেওয়ারুন বেগমকে মৃত দিয়ে ভাতা বঞ্চিত করা হয়নি। এরকম জীবিত আরও কয়েকজনকে মৃত দেখিয়ে ভাতা বঞ্চিত করার পাশাপাশি বিধাব ভাতা ও বয়ষ্কভাতা জন্য টাকা চাওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী কুটি মিয়া জানান, সাত মাস বয়ষ্ক ভাতা বন্ধ থাকার পর জানতে পারেন তাকে মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে। যে কারণে ভাতা পাচ্ছেন না।
একই এলাকার মো. ইলিয়াছ আলী বলেন, আমাদের এলাকায় জীবিত মানুষকে মৃত বানানো হচ্ছে। আমার জীবিত থাকার পর তাকে মৃত বলে ভাতা বন্ধ সাত মাস ধরে।
পশ্চিম শংকরপুর গ্রামের ৬৪ বছর বয়সী সফিক উদ্দিন বলেন, আর কতো বয়স হলে বয়ষ্ক ভাতা পাওয়া যাবে। মেম্বারের কাছে বয়ষ্ক ভাতার জন্য গেলে তিনি টাকা ছাড়া বয়স্ক ভাতার নাম তালিকাভুক্ত করা যাবে না বলে সাফ জানিয়েছেন।
বিধাব মনোয়ারা বেগম বলেন, আমি স্বামী মারা যাওয়ার পর মেম্বারের কাছে বিধাব ভাতার জন্য যাই। মেম্বার বলেন যে তাকে ভোট দেই নাই যার কারণে বিধবা ভাতা দেওয়া যাবে না।
বিগত নির্বাচনে পশ্চিম শংকরপুর গ্রামে মেম্বার প্রার্থী ছিলেন আব্দুস সালাম। ভোটে বর্তমান মেম্বারের কাছে পরাজিত হন। আব্দুস সালাম বলেন, আমি নির্বাচন করার পর থেকেই আমার এলাকার জীবিত মানুষ মৃত বানানোসহ নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে দাসেরবাজার ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রহমানের মুঠোফানে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
দাসেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, বয়ষ্ক ভাতা, বিধবা ভাতাসহ এসব বিষয়ে স্থানীয় মেম্বার তালিকা করেন। পশ্চিম শংকরপুর গ্রামের বায়োবৃদ্ধ নেওয়ারুনকে মৃত দেখিয়ে বয়ষ্ক ভাতার কার্ড বাতিল করার ঘটনা কী কারণে ঘটেছে তার জানা নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনজিত কুমার চন্দ বলেন, তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভোট না পাওয়ায় ক্ষোভে জীবিত মানুষকে মৃত দেখিয়ে অন্য জনের নামে কার্ড বরাদ্ধ দেওয়া এই স্বজন প্রীতিকারী চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি এলাকাবাসীর।
জেবি