দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

স্বামীকে হত্যার হুমকি দিয়ে কৌশলে স্বনাতন ধর্মালম্বী এক গৃহবধূকে ধর্ষণের সময় এলাকাবাসীর হাতে আটক সেই ছাত্রলীগ নেতা সোলায়মান আলী সবুজের নামে থানায় দায়ের করা অভিযোগ ২৪ ঘণ্টা পর আমলে নিয়েছে পুলিশ। তবে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকে দুই দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
এর আগে ঘটনার ৪দিন পর গত মঙ্গলবার ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে অভিযোগ দিলেও ২৪ ঘণ্টা পর বুধবার রাতে তা রেকর্ড করে পুলিশ। মামলা নং ২৬। গত ১৩ আক্টোবর লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের বারোহাত কালী নামক স্থানে সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
ধর্ষণের শিকার ওই এলাকার গৃহবধূ। অভিযুক্ত সোলায়মান আলী সবুজ একই ইউনিয়নের কুলাঘাট এলাকার সফিকুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন থেকে ছাত্রলীগ নেতা সবুজ ওই গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে রাজি না হওয়ায় সে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। তার স্বামী স্থানীয় কুলাঘাট বাজারে মাছের ব্যবসা করে সংসার চালায়। তার স্বামী রাতে বাজার থেকে ফেরার পথে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় ছাত্রলীগ নেতা সবুজ। কিন্তু এতেও কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে সুযোগের সন্ধানে থাকে ওই ছাত্রলীগ নেতা। পরে ঘটনার দিন সন্ধ্যা রাতে বাড়িতে প্রবেশ করে ঘরের দরজায় কড়া নাড়ে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাড়িতে ছিলেন একা। শব্দ পেয়ে দরজা খোলা মাত্রই গৃহবধূর মুখ চেপে ধরে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে গৃহবধূর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। এসময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ছাত্রলীগ নেতা সবুজকে আটক করে উপস্থিত প্রতিবেশী লোকজন। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দল বেঁধে এসে সবুজকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এদিকে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য টাকা দিয়ে জোরপূর্বক মীমাংসার চাপ সৃষ্টি করে আসছিল স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও গ্রামের মাতব্বররা। মীমাংসায় রাজি না হলে ভুক্তভোগী পরিবারকে গৃহবন্দী করে রাখে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। বাড়ির সামনে রীতিমতো পাহারা বসিয়ে দেয় তারা। ভুক্তভোগী পরিবার ঘর থেকে বের হতে না পেরে থানায় জানাতে পারেনি। ৩ দিন ধরে মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ১০০ টাকা মূল্যের ৩টি নন জুডিশিয়াল স্টাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে নিজ বাড়ি থেকে বের করে দেয় তারা। পরে স্ত্রীকে সাথে নিয়ে স্বামী জলধর কুড়িগ্রামে শ্বশুরবাড়িতে চলে আসে। সেখান থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লালমনিরহাট সদর থানায় এসে ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। পরদিন বুধবার রাতে অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলা হিসেবে রেকর্ড করেন থানা পুলিশ।
গৃহবধূর স্বামী জানান, আমার স্ত্রীর সাথে বিভিন্ন নম্বর দিয়ে কথা বলে কুপ্রস্তাব দিত। এতে রাজি না হওয়ায় বাড়িতে একা পেয়ে তাকে ধর্ষণ করেছে। পরে আমাকে টাকা নিয়ে মীমাংসা করার চাপ দেয় ছাত্রলীগ নেতা সবুজের লোকজন। এতে রাজি না হলে তারা আমাদের ৩দিন বাড়ি থেকে বের হতে দেয়নি। পরে সোমবার বিকালে ৩টি ১০০টাকার ফাকা স্টাম্পে আমাদের সই নিয়ে নিজ বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে কুড়িগ্রামে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকে লালমনিরহাট সদর থানায় মামলা দিয়েছি। সামনে দুর্গাপূজা। ওরা আমাদের পূজার আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। আমি ছাত্রলীগের নেতা সবুজের বিচার চাই।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সোলায়মান আলী সবুজ জানান, আমাকে সমস্যার কথা বলে বাড়িতে ডেকে নেয়। পরে ওই গৃহবধূ এলাকার লোকজনকে ডেকে এনে মিথ্যা অপবাদ দেয়। আমার সাথে ওই গৃহবধূর কোনো সম্পর্ক নেই।
এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি ওমর ফারুক জানান, গত মঙ্গলবার রাতে অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার দ্রুত তদন্ত শেষে বুধবার রাতে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা প্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।
আরএ