দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানিকগঞ্জে অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের চক্রান্তে এক প্রবাসীকে মাদক মামলায় ফাসাঁনোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে গত ১৫ অক্টোবর পলিশ সুপার বরাবর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের গণস্বাক্ষর এবং স্থানীয় চেয়ারম্যানের প্রত্যয়ন সংবলিত একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন শান্ত নামের প্রবাসী ভুক্তভোগীর বাবা মো. গোলাপ মিয়া ।
গত ৯ অক্টোবর সোমবার সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের কাওনান মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শান্ত সদর থানার ১৫ নম্বর মাদক মামলায় জেলা কারাগারে রয়েছেন।
শান্ত মিয়া সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের দুর্লভদী এলাকার মো. গোলাপ মিয়ার ছেলে। তিশা একই এলাকার পরকীয়া প্রেমিক ও বর্তমানে মোজাফ্ফরের স্ত্রী। মোজাফ্ফর একই এলাকার মুনছুরের ছেলে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শান্ত মিয়া সৌদি প্রবাসে থাকাবস্থায় তার স্ত্রী তিশা স্থানীয় মোজাফ্ফর মোল্লার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। শান্ত মিয়া প্রবাস থেকে তার স্ত্রীর ব্যাংক একাউন্টে টাকা পাঠায়। পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়ে জানতে পেরে শান্ত ও শান্তর পরিবার তিশাকে শাসন করলে তিশা শান্তর সকল টাকা পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে মোজাফ্ফরের কাছে চলে যায়। এ ঘটনায় শান্ত আদালতে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করলে চরম শত্রুতার সৃষ্টি হয়। যার ফলে তিশা ও মোজাফ্ফর স্থানীয় মাসুম ও আনেছের সঙ্গে শান্ত মিয়াকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর পরিকল্পনা করে। গত ৯ অক্টোবর মাসুম শান্তকে ডেকে দুর্লভদী যাবে বলে শান্তর সাথেই থাকা স্থানীয় জামালকেও নিয়ে দুর্লভদী যাওয়ার জন্য একই মোটরসাইকেলে ওঠে। কাওনান মোড়ে তাদের থানা পুলিশ তাদের মোটরসাইকেল থামায়। এ সময় পুলিশ শান্তর কাছে মাদক ইয়াবা আছে বলে জানায়। শান্ত অস্বীকার করলে পুলিশ তাদের থেকে ১০ ফিট দূর থেকে ৪ পিছ ইয়াবা কুরিয়ে আনে। আভিযোগকারীর দাবী, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঐখানে ইয়াবা রাখা হয়েছিল। তিনজনের মধ্যে শুধু মাত্র শান্তকে আটক করে বালিরটেক ব্রিজে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় মামলায় ৪ পিছের জায়গায় ৭০ পিছ এবং দুপুরের ঘটনা থাকলেও দেখানো হয়েছে রাতের । সেই সাথে ঘটনা কাওনান মোড় উল্লেখ না করে দেখানো হয়েছে বালিরটেক ব্রিজের ওপরে। এই মামলার বিষয়টি বিবেচনা পূর্বক সুষ্ঠু তদন্ত করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী মো. গোলাপ বলেন, তার ছেলেকে অন্যায়ভাবে ফাসাঁনো হয়েছে। তাই এর সুষ্ঠু তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোজাফ্ফর মুঠোফোনে জানান, শান্ত ও তার পরিবারের সাথে বিষয়টি আপস হয়েছে। উভয়পক্ষ আদালতে যে মামলা ছিলো তা প্রত্যাহারও হয়েছে। এছাড়া শান্ত যে মাদক মামলায় জড়িয়েছে তার সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এ বিষয়ে জানতে ঘটনার সময় শান্তর সঙ্গে থাকা জামাল জানান, ঘটনার সময় আমরা তিনজন ছিলাম, শান্তর কাছে কোন ইয়াবা ছিলো না। রাস্তার পাশ থেকে ৪ পিছ ইয়াবা কুড়িয়ে নিয়ে শান্তকে আটক করে। শান্ত মাদক খায়ও না এবং কোন প্রকার মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত না। এ বিষয়ে জানতে ঘটনার সময় শান্তর সঙ্গে থাকা মাসুমের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ও মামলায় জব্দ তালিকায় স্বাক্ষী আনেছ বলেন, তিনি গাড়ি চালান। তিনি যখন বালিরটেক ব্রিজে যান তখন পুলিশ শান্তর কাছ থেকে ইয়াবা পেয়েছে বলে জানায় । তাকে স্বাকী হিসেবে তার স্বাক্ষর নেয়। তিনি আরো জানান, কত পিস ইয়াবা ছিলো তা তিনি জানেনই না।
অভিযোগের বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ প্রশাসন।
জেবি