দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নরসিংদীতে ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিত্বে শহরের চিনিশপুরের জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনের বাড়ি থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার শাহবাগ থানার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সামনে থেকে নরসিংদী ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
শুক্রবার দুপুরে (১৩ অক্টোবর) গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন চন্দ্র সরকার। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ।
গোয়েন্দা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ছাত্রদলের বহিস্কৃত নেতা সাদেকুর রহমানসহ জোড়া হত্যা মামলায় এজাহার নামীয় আসামি ছিলেন জেলা ছাত্রদল সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সে গা ঢাকা দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার ঢাকার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট তথা শাহবাগ এলাকায় অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি খোকন চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। পরে শাহবাগ এলাকা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সামনে থেকে নহিদকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে নিয়ে অভিযানে নামে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিত্বে চিনিশপুরে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক খায়রুল কবির খোকনের বাড়ির দ্বিতীয় তলার উত্তর পাশের বাথরুমের ফলস ছাদের পশ্চিম পাশে লুকানো অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়।
নাহিদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ছাত্র ঐক্যের কনভেনশন চলাকালে নাহিদকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে আটক করে। পরে তাকে চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। ওই সময় তার সঙ্গে ছাত্রদলের দুই কর্মী ছিলেন। তাদেরকেও নিয়ে আসে। পরে তাদের মাধবদী এসে ছেড়ে দেয়। এর আগে বিএনপির আন্দোলন ঠেকাতে ২০১৭ সালে আইনশৃঙ্খরা বাহিনীর পরিচয়ে নাহিদকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে ৯ মাস গুম থাকার পর অস্ত্র উদ্ধার দেখিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন চন্দ্র সরকার বলেন, জোড়া হত্যা মামলায় পলাতক আসামি ছিলেন জেলা ছাত্রদল সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়। তার বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা রয়েছে।
ছাত্রদল সভাপতিকে আটকের পর পর তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তারে বিষয়টি প্রকাশ করেনি পুলিশ। তাই এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক বিরোধীদলীয় কোনো নেতাকর্মীকে আটক এবং হদিস না দেওয়াটা ভয়াবহ অমানবিক ও দস্যুবৃত্তিমূলক কাজ। আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতায় থেকে এ ধরনের ঘটনাকে একটি সংস্কৃতিতে পরিণত করেছে। রাষ্ট্রের মদদে এখনও বিরোধী দল নিধনে বেপরোয়া কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, সিদ্দিকুর রহমান নাহিদকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে যাওয়া ও হদিস না দেওয়ার লোমহর্ষক ঘটনা নিঃসন্দেহে অশুভ উদ্দেশ্য প্রণোদিত। সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ নিখোঁজ থাকার ঘটনায় তার পরিবার ও বিএনপি নেতাকর্মীরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। অবিলম্বে তাকে প্রকাশ্যে উপস্থিত করার জন্য আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য: নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকে কমিটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত ও বহিস্কৃত নেতারা। চলতি বছরের ২৬ মে ছাত্রদলের বহিস্কৃত নেতা নিহত সাদেকুর রহমান ও মাইনুদ্দিনের নেতৃত্বে মটর সাইকেল বহর নিয়ে তাদের শত শত সমর্থক কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে। ওই সময় চিনিশপুর বিএনপি অস্থায়ী কার্যালয়ের অদূরে দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে সাদেকুর রহমান ও আশরাফুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রথমে সাদেক ও পরে আশরাফুল মারা যায়। ওই ঘটনায় বিএনপির যুগ্মমহাসচিব খায়রুল কবির খোকন,তার স্ত্রী শিরীন সুলতানা ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদ সহ বিএনপির ৩০ নেতার বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
জেবি