দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রেমের সম্পর্ক মেনে না নেওয়াই, ও পরিবারের অত্যাচারে পালিয়ে বিয়ে করার কারণে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নব-দম্পতি। প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করার কারণে মেয়ের পরিবার থেকে হয়রানি করা হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলেছেন সাংবাদিকদের কাছে এক দম্পতি।
তারা ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ৭নং কাজীরবেড় ইউনিয়নের সামন্তা বাজারের মো. নজরুল ইসলামের ছেলে মো. আব্দুর রহিম ও একই গ্রামের মো. নুর হোসেনের মেয়ে মোছা. নুসরাত জাহান তন্নী। বুধবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ তুলে ধরেন।
এসময় আব্দুর রহিম জানান, আমার সঙ্গে তন্নীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকে। সম্পর্কের কথা পারিবারিকভাবে জানালে, মেয়ের পরিবার অসম্মতি জানায়। এখন আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে আমরা দুজনাই প্রাপ্তবয়স্ক। তবে পারিবারিক চাপে প্রতি মূহুর্তেই আমাকে মৃত্যু ভয়ে থাকতে হচ্ছে, যেকোনো মূল্যে তারা আমাকে হত্যা করবে। এর আগেও তারা আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে, এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করেছে। এখন আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করেছি। আমাদের কাছে সব কিছুর প্রমাণ আছে, আমাদের কাবিননামা হয়ে গেছে, তার ভিত্তিতে আমরা কোর্টে একটি এফিডেভিট করেছি।
এ বিষয়ে নুসরাত জাহান তন্নী অভিযোগ করে বলেন, আব্দুর রহিম আমার বাসার হোম টিউটর ছিলেন, সেখান থেকেই আমাদের সম্পর্ক হয়। সেটি আমার বাসায় জানালে বাসা থেকে কেউ মেনে নেয় না। এরপর আমার কলেজ যাওয়া বন্ধ করে দেয়, আমার ফোন ও নিয়ে নেই। এভাবে আমি বাসায় ১৪ দিন থাকার পরে নানি বাড়ি পাঠিয়ে দেই। গত পরশু দিন আমার ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুন ও আমার মামা আমাকে অত্যাচার করে। আমার ভাই আমাকে প্রতিরাতে কিসের ওষুধ খাওয়াই তা আমি নিজেও জানি না। শুধু বলে ঘুমের ওষুধ, কিন্তু ওষুধ খাওয়ার পরে কখনোই আমার ঘুম আসতো না। তখন জোর করে আমার হাত-মুখ বেঁধে একটি ইনজেকশন দেয়। পরে ভাই মামাকে বলে দেখে রেখ আমি গাড়ি নিয়ে আসছি। তখন আমি বুঝতে পারি আমার ক্ষতি হতে যাচ্ছে। তখন আব্দুর রহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে পালিয়ে এসে আমরা স্ব-ইচ্ছায় বিয়ে করি।
বর্তমান সমস্যার কথা তুলে ধরে নব-দম্পতিরা জানান, আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, আমরা চায় সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে। আমরা প্রশাসনের কাছে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আমরা নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা চায়।
এ বিষয়ে নুসরাত জাহান তন্নীর ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত পরশু থেকে আমার বোনকে খুঁজে পাচ্ছি না, আমরা এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ করেছি, তবে আমার বোন যে অত্যাচারের অভিযোগ করেছে এ বিষয়টি সত্য নয়।
এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শামীম উদ্দিন বলেন, যেহেতু মেয়েটি আলমডাঙ্গা থানা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন, সে কারণে পরিবারের পক্ষ থেকে আলমডাঙ্গা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। যেহেতু ছেলে ও মেয়ের বাড়ি মহেশপুর থানায় হওয়াতে বিষয়টি আমাদেরকে অবগত করা হয়েছে। আমরা সঠিক তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কাজ করছি।
এম