দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুরে পাঁচ মাসের শিশুর (রাইয়ান) চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের কাছে নিয়ে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় সাদিয়া নামে এক মা নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সুবচনী-নাগেরপাড়া সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাদিয়া গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের বালিকুরি গ্রামের রায়হান শিকদারের স্ত্রী।
সাদিয়ার পরিবার সূত্রে জানা যায়, পাঁচ মাস বয়সী শিশু রাইয়ানের চিকিৎসার জন্য তার মা সাদিয়া ও বাবা রায়হান ভ্যানগাড়িতে করে গোসাইরহাটের নাগেরপাড়া থেকে সদর উপজেলার সুবচনী বাজারে চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছিল। পথে সড়কের ওপর দিয়ে একটি গুইসাপ দ্রুত গতিতে গেলে ভ্যানগাড়িটি উল্টে যায়। এ সময় সাদিয়া ভ্যানগাড়ির নিচে পড়ে যান। এ সময় ঘটনাস্থলেই সাদিয়া নিহত হন।
গাড়িতে থাকা তার স্বামী রায়হান ও ভ্যানচালক আহত হলেও শিশু রাইয়ানের কোনো ক্ষতি হয়নি। পথচারীরা দ্রুত সাদিয়াকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভ্যানচালক মান্নান বেপারী বলেন, নাগেরপাড়া থেকে ভ্যানগাড়ি চালিয়ে সুবচনী বাজারের দিকে আসছিলাম। হঠাৎ একটি গুইসাপ দ্রুতগতিতে রাস্তায় চলে এসে ভ্যানগাড়ির নিচে পড়লে আমার গাড়িটি উল্টে যায়৷ উল্টে যাওয়া গাড়ির নিচে পরে গুরুতর আহত হন সাদিয়া আপা। সাদিয়া আপাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন।
নিহতের স্বামী রায়হান শিকদার বলেন, বিয়ের পর আমার মনে কষ্ট দিয়ে সাদিয়া কখনো কোনো কথা বলেনি। আমার শিশুটির বয়স ছয় মাস। ওর মা আর নেই। এখন আমি এই শিশুকে নিয়ে বাঁচব কীভাবে? আমার কোনো অভিযোগ নেই, আমি মরদেহ ময়নাতদন্ত করতে দেব না। পুলিশ চাচ্ছে ময়নাতদন্ত করতে।
সাদিয়ার শাশুড়ি মাজেদা বেগম বলেন, রাইয়ান অসুস্থ থাকায় তাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসার পথে গাড়ি উল্টে গিয়ে আমার ছেলের বউ মারা গেছেন। মেয়েটির মা বাবা কেউ নেই। নিজের মেয়ের মতো সাদিয়াকে আমি ভালোবাসতাম। সাদিয়া এক্সিডেন্ট করে মারা গেছে। আমাদের কোনো অভিযোগ নেই।
পালং মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় সাদিয়া মারা গেছেন। পরিবার না চাইলে তার ময়নাতদন্ত হবে না। কিন্তু তাদেরকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মরদেহটি নিতে হবে। অল্প সময় আগে দুর্ঘটনাটি ঘটায় পরিবারের সবাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তাদেরকে সময় দিয়েছি, তারা ধীরে সুস্থে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মরদেহ নিবেন বলে আশা করছি।
জেবি