দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে খোপ খোপ করে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মারধর এবং এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুল কেটে দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে খোপ খোপ করে কেটে দেন প্রধান শিক্ষক। এতে শিক্ষার্থীদের চুলের স্বাভাবিক আকৃতি নষ্ট হয়। বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে তারা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম প্রায়ই তাঁদের বিনা কারণে মারধর করেন।
অভিভাবক মিলন বলেন, তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরে ফিরে এসে ছেলের মাথার চুলও খোপ খোপ করে কাটা দেখতে পান। অথচ তাঁর ছেলে ফাহামুদ হোসাইনের চুল স্বাভাবিকই ছিল।
আরেক অভিভাবক রকেট হোসেন বলেন, প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থীর চুল এভাবে কেটে দেওয়া হয়েছে। শীতের মধ্যে এমন ঘটনায় শিশুরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। এর আগেও এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রধান শিক্ষক প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মিতু বানু নামের এক অভিভাবক অভিযোগ করেন, কয়েক দিন আগে তাঁর ছেলেকে মারধর করায় দুই পা রক্তাক্ত হয়ে যায়। ভয়ে এখন সে বিদ্যালয়ে যেতে চায় না। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের চুল অনেক বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল। এ কারণে কয়েকজনের মাথার চুল কেটে দিয়েছেন।
নাপিত ডেকে কিংবা অভিভাবকদের সঙ্গে কথা না বলে এভাবে চুল কেটে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দেখতে খারাপ লাগছিল। এ জন্য কপালের ওপরের চুল কেটে দিয়েছেন।
বদলগাছী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। প্রশিক্ষণে থাকায় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিনকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ঘটনাটি শুনেছেন। ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয় শিশুদের জন্য নিরাপদ ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার জায়গা। সেখানে শৃঙ্খলার অজুহাতে শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেওয়া ও মারধরের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
যে আই