দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বারোমাসিয়া নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোর অর্ধেকের বেশি অংশ ভেঙে গেছে। এতে দুই পাড়ের অন্তত আট গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। দুই থেকে তিন মাস ধরে সাঁকোটি ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেই। ফলে বাধ্য হয়ে কেউ বুকসমান পানি পেরিয়ে, কেউ সাঁতরে আবার কেউ ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সাঁকো দিয়ে নদী পার হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্করা।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ সাঁকোটির দক্ষিণ পাশের মাঝামাঝি প্রায় ১৫০ ফুট অংশ ভেঙে গেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবে চলাচলের সুযোগ নেই। কেউ বুকসমান পানিতে হেঁটে, কেউ সাঁতরে নদী পার হচ্ছেন। আবার কেউ ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা অংশ দিয়ে পারাপারের চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় চার দশক ধরে এই নদী পারাপারে ডিঙি ও মাঝারি আকারের নৌকা ব্যবহার করতেন দুই পাড়ের মানুষ। করিমের ঘাট ও নবিউলের ঘাট নামে পরিচিত স্থানগুলোতে ইজারাদারের মাধ্যমে নৌকায় পারাপার হতেন তাঁরা। পরে নদীর প্রশস্ততা কমে এলে স্থানীয় উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। প্রায় দেড় যুগ ধরে এই সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করছেন।
প্রতিবছর বর্ষার আগে স্থানীয় উদ্যোগে সাঁকোটি মেরামত করা হতো। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বাঁশের পাটাতন ও কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। দুই থেকে তিন মাস আগে সাঁকোটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেলে দুর্ভোগ শুরু হয়।
সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী, চরগোরকমন্ডল, ঝাউকুটি, পশ্চিম ফুলমতি, নাওডাঙ্গা ও শিমুলবাড়ী এলাকার হকবাজারসহ লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের চরখারুয়া ও খারুয়া গ্রামের মানুষ বিপাকে পড়েছেন। বাজারে যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মিনতি রানীকে মাথায় বাদামের বোঝা নিয়ে বুকসমান পানি পেরিয়ে নদী পার হতে দেখা যায়। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দুই-তিন মাস ধরে কষ্ট করে নদী পারাপার হচ্ছেন। কিন্তু কেউ তাঁদের খোঁজ নিতে আসেননি। ছেলেমেয়েদেরও অনেক কষ্ট করে নদী পার হয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে। দ্রুত সাঁকোটি মেরামতের দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী আকাশ মাহমুদ ও কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, এই পথ দিয়ে এলাকার হাজারো মানুষ নিয়মিত নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বালারহাট বাজারে যাতায়াত করেন। এ ছাড়া এলাকার দেড় থেকে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বালারহাট আদর্শ স্কুল, বিভিন্ন মাদ্রাসা ও ফুলবাড়ী কলেজে পড়াশোনা করে। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় তাদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার না হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটবে।
বিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী সুমন মিয়া, শাকিব ও সবুজ মিয়া এবং কলেজশিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম, আব্দুল জব্বার ও মঈনুদ্দিন জানায়, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। বিকল্প রাস্তা না থাকায় কখনো সাঁতরে, আবার কখনো ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সাঁকো পার হতে হয়। পারাপারের সময় অনেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। দ্রুত সাঁকোটি মেরামতের দাবি জানায় তারা।
নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় মৎস্য খামারি আতাউর রহমান রতন বলেন, বারোমাসিয়া নদীর ওপর এই সাঁকোটি দুই পাড়ের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। দুই থেকে তিন মাস আগে এটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছে। দ্রুত সাঁকোটি মেরামত অথবা টেকসইভাবে নতুন সাঁকো নির্মাণ করা প্রয়োজন।
নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাছেন আলী বলেন, ভেঙে যাওয়া সাঁকোটি পুনর্নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। এটি নির্মাণ করা হলে দুই পাড়ের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ কমবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ হাসান বলেন, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেখানে একটি টেকসই বাঁশের সাঁকো নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছেন তিনি।
যে আই