দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে বিরাজ করছে উত্তপ্ত পরিস্থিতি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে জেলার নাওজোর ও ভোগরা বাইপাস এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদেরও বিভিন্ন সড়কে অবস্থান করতে দেখা গেছে। সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহানগরীর ন্যাজর এলাকায় প্যানিসিয়া লিমিটেডের শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উড়ালসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে কোনাবাড়ীর বে ফুটওয়্যার, মৌচাক এলাকার পূর্বাণী এবং তেলিচালা এলাকার লগোস অ্যাপারেলস ও এটিএস অ্যাপারেলসের শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে কারখানা থেকে বেরিয়ে বিক্ষোভে যোগ দেন।
অন্যদিকে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া এলাকায় কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে বিজিবি, শিল্প পুলিশ ও থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
একপর্যায়ে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
একই সময়ে ভোগড়া বাইপাস এলাকাতেও শ্রমিকরা টায়ার জ্বালিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। সেখানেও পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়। শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধের কারণে সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুই মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। পরে দুপুর সোয়া একটার দিকে প্রায় চার ঘণ্টা পর দুই মহাসড়কেই যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে জেলার অন্তত ৬০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া শ্রমিক নন- এমন সাত নাশকতাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করতে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুরের সফিপুর, কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ী এলাকায় ১০ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় দুই প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোন ও বিজিবি সদস্যদের শরীরে থাকা বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এমজে