দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শেরপুর সদর উপজেলায় পাগলা কুকুরের কামড়ে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভাতশালা ও লছমনপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কুকুরটির বেপরোয়া আক্রমণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আহতদের ভাষ্য, মঙ্গলবার ভোর থেকে একটি পাগলা কুকুর বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিকভাবে ছোটাছুটি শুরু করে। পথচারীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সামনে যাকে পেয়েছে, তাকেই কামড় ও আঁচড় দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এভাবে ভাতশালা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হন।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, কুকুরের কামড় ও আঁচড়ে আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসা নিতে ভিড় করেছেন। তাদের ক্ষতস্থান সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে জনবলসংকটের কারণে একজন নার্সকে টিকা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। টিকা পেতে দেরি হওয়ায় রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের বাগ্বিতণ্ডাও হচ্ছে।
চিকিৎসা নিতে আসা চার বছর বয়সী এক শিশুর স্বজন আব্দুল আলিম বলেন, আমার বাচ্চাকে ভোর ৬টায় কুকুর কামড়িয়েছে। সকাল ৭টায় হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু বেলা ১১টা পার হলেও টিকা পাইনি। আনসার সদস্যরা আমাদের বের করে দিচ্ছেন।
একই অভিযোগ করেন রোকন নামের আরেক রোগীর স্বজন। তিনি বলেন, বাড়ির সামনে আমার মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় পেছন থেকে এসে কুকুরটি তার পিঠে আঁচড় দেয়। সকাল ৮টায় হাসপাতালে এসেছি। দুপুর ১২টা বাজলেও টিকা পাইনি। নার্স বাইরে চলে গেছেন। প্রতিবাদ করলে আনসার সদস্যরা ঝগড়া করেন। এভাবে একটি হাসপাতাল চলতে পারে না।
লছমনপুর ইউনিয়নের দড়িপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সেকান্দর আলী বলেন, দ্রুত কুকুরটিকে শনাক্ত করে আটক বা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে গ্রামে মানুষের চলাচল অনিরাপদ হয়ে পড়বে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশু ও কৃষকদের ঝুঁকি বেশি।
হাসপাতালের টিকাদান কক্ষ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাগলা কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত ৫০ জনকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়েছে। বাকিদের পর্যায়ক্রমে টিকা দেওয়া হচ্ছে।
শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সরকারিভাবে সবাইকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হচ্ছে। জনবলসংকটের কারণে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। তবে টিকা দেওয়ার দায়িত্বে আরও কয়েকজনকে যুক্ত করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সবাই টিকা পাবেন।
যে আই