দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নে ডিলারশিপ নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে সার ডিলার নিয়োগের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজনীয় সারের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, দৃশ্যমান ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং উপযুক্ত গুদাম সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও মেসার্স আঙ্গুর ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মুসাইয়িব পিয়াসকে ডিলার পদে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় সার ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সচেতন নাগরিক সমাজ।
দেশ টিভির অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাহাপাড়া ইউনিয়ন থেকে সারের ডিলারশিপের জন্য মোট ১৩ জন প্রার্থী আবেদন করলেও আবেদনের তালিকায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একাধিক স্থানীয় ব্যবসায়ী থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বাদ দিয়ে পিয়াসকে বেছে নেওয়া হয়।
অভিযুক্ত পিয়াস মূলত ঢাকায় অবস্থান করে লেখাপড়া করেন। সারের ব্যবসার সঙ্গে তাঁর পূর্বের কোনো বাস্তব সম্পর্ক বা অভিজ্ঞতা ছিল না।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পিয়াসের বাবা স্থানীয় একটি কলেজের শিক্ষক (প্রভাষক) এবং মা একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। সারের ব্যবসার সঙ্গে পরিবারের পূর্ববর্তী কোনো সংশ্লিষ্টতা বা অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও কেবল প্রভাব ও অনৈতিক সুবিধার জোরে এই ডিলারশিপ হাসিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সারের ডিলারশিপ নীতিমালায় পর্যাপ্ত ধারণক্ষমতাসম্পন্ন নিজস্ব বা ভাড়া করা উপযুক্ত গুদাম থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ডিলারশিপ পাওয়ার আগে সাহাপাড়া ইউনিয়নে পিয়াসের কোনো দৃশ্যমান সারের দোকান বা গুদাম ছিল না।
অভিযোগ রয়েছে, তুলসীঘাট বাজারের গোডাউন রোড এলাকায় তাঁর বাবার আবাসিক বাড়ির দুটি শোবার কক্ষকে ভুয়া গুদাম বানিয়ে কাগজে-কলমে আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়।
ডিলার নিয়োগ পাওয়ার পরেই কেবল ওই আবাসিক বাড়ির সামনে তড়িঘড়ি করে নতুন গুদামঘর নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়, যা নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পিয়াসের নামে কোনো বৈধ ও সচল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান না থাকা সত্ত্বেও অসাধু উপায়ে ও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স বাগিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মনিটরিং কমিটির প্রতিনিধিরা সরেজমিনে সঠিক তদন্ত না করেই প্রভাব বা অনৈতিক সুবিধার কাছে নতিস্বীকার করেছেন।
ভুক্তভোগী সার ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে সব নিয়ম-নীতি মেনে সার, বীজ ও কীটনাশকের ব্যবসা করে আসছি। নীতিমালার সব শর্ত পূরণ করে আবেদন করার পরও আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ যে ছেলের এখানে কোনো দোকানই ছিল না, ঢাকায় বসে পড়াশোনা করে, তাকে রাতারাতি ডিলার বানিয়ে দেওয়া হলো! মনিটরিং কমিটি কী যাচাই করে এই সিদ্ধান্ত নিল, তা বোধগম্য নয়।”
তিনি অনতিবিলম্বে এই বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে সব প্রার্থীর যোগ্যতা ও কাগজপত্র পুনর্নিরীক্ষার জোর দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. আব্দুল্লাহ আল মুসাইয়িব পিয়াসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
তবে তাঁর বাবা মো. আঙ্গুর প্রধান ছেলের ঢাকায় পড়াশোনা করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “নতুন নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের কারও আগের অভিজ্ঞতা নেই। আমার ছেলে পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসা করে। বর্তমানে বাড়ির দুটি কক্ষ গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক এস এম মনিরুজ্জামান খান জানান, “আমরা যাচাই-বাছাই করে ঢাকায় পাঠিয়েছি, ঢাকা থেকে নিয়োগ করা হয়েছে। এর পরেও কোনো তথ্য গোপন করে নিয়মবহির্ভূতভাবে সার ডিলার নিয়োগ হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কেএম