দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সুনামগঞ্জ-৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুলের বিরুদ্ধে দুটি সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া, এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সেতুর নির্মাণকাজে অনিয়ম ও ধীরগতির সঠিক তদন্ত দাবি করেছেন সংসদ সদস্য।
ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও একই অভিযোগ জমা দিয়েছেন তিনি। অভিযোগে সংসদ সদস্য ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি, পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সরকারি উন্নয়নকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে তদন্ত ও নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শফিকুল ইসলাম ইসলাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী। তিনি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মুক্তিরখলা-১ ও সালামপুর সেতুর নির্মাণকাজ করছেন। তার দাবি, প্রায় ৮৭ কোটি টাকার এ প্রকল্পের কাজ বিভিন্ন সময়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ঠিকাদারের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার সালামপুর সেতুর গার্ডওয়াল নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে কাজ বন্ধ রাখার কথা বলেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম। এ সময় তার সঙ্গে থাকা লোকজন কয়েকজন শ্রমিককে মারধর করেন বলেও অভিযোগ করেছেন ঠিকাদারপক্ষ। এতে রোলারচালক মনির, পে-লোডারচালক কবির আহমদ ও সাইট ঠিকাদার হোসেন আহমদ আহত হন বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শফিকুল ইসলামের দাবি, সংসদ সদস্য ও তার লোকজন বিভিন্ন সময়ে তার কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। টাকা না দেওয়ায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও মাধ্যম ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টি, হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
এ ছাড়া গত ২০ অক্টোবর দুই দফায় মুক্তিরখলা-১ সেতুর নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই মাসের ৫ ও ২০ অক্টোবর জেলা যুবদল ও পৌর যুবদলের দুই নেতা তাকে ফোন করে হুমকি দেন এবং সংসদ সদস্যের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি সমাধানের জন্য চাপ দেন বলেও দাবি তার।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসের সামনের সড়কে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় তাকে ৫১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া গত বছরের ২৮ মার্চ জামালগঞ্জ থানার বেহেলী ইউনিয়নের করালজান বিল গ্রুপ (খ) জলমহালের অন্তর্গত কাবিলার বিলের মাছ চুরির ঘটনায় করা মামলায় তাকে ১৩ নম্বর আসামি করা হয়। এসব ঘটনাকে হয়রানির অংশ হিসেবে দেখছেন ঠিকাদার। তবে মামলাগুলোর সঙ্গে তার অভিযোগের সম্পর্ক স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
সব অভিযোগ অস্বীকার করে সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, “ঠিকাদার শফিককে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। মঙ্গলবার একটি অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে এলাকার লোকজন সালামপুর সেতুর গার্ডওয়াল নির্মাণে অনিয়মের বিষয়টি দেখান। বিষয়টি দেখার পর নির্বাহী প্রকৌশলীকে নিয়ে বুধবার সরেজমিনে যাওয়ার কথা।”
তিনি বলেন, “কাজ বন্ধ করা কিংবা চাঁদা দাবির অভিযোগ অবান্তর। তাকে প্রমাণ করতে হবে, কে চাঁদা দাবি করেছে এবং কে হুমকি দিয়েছে।”
বুধবার দুপুরে আবারও সালামপুর সেতু পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য। এ সময় তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “গতকাল একটি খেলা থেকে ফেরার পথে এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সেতুর কাজ দেখেছি। কাজের অনিয়ম ও ধীরগতির কারণে এলাকার মানুষ কষ্টে আছেন।”
তিনি আরও বলেন, “কাজ নিয়ে কথা বলায় আমার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। মূলত লুটপাট ঢাকতে এসব করা হচ্ছে। উন্নয়নকাজ নিয়ে চাঁদা চাওয়া তো দূরের কথা, কাউকে ধমকও দিইনি।”
ঠিকাদারকে পুলিশ দিয়ে হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মামলা হলে পুলিশ তার কাজ করবে। আমি কেন হয়রানি করব?”
এ সময় উপস্থিত সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, কাজে অনিয়ম থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্মাণকাজের ধীরগতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
দুটি সেতুর নির্মাণকাজ নিয়ে ঠিকাদারের চাঁদা দাবি ও হয়রানির অভিযোগ এবং সংসদ সদস্যের অনিয়মের অভিযোগ তোলার ঘটনায় এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা, নির্মাণকাজ বন্ধের কারণ এবং শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
যে আই