দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নওগাঁর পত্নীতলায় জমি কেনাবেচা নিয়ে বিরোধের জেরে সাত বিঘা জমির আমন ধানে আগাছানাশক প্রয়োগ করে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে আপন চাচা ও দুই চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এতে কৃষক বেলাল ইসলাম ও আবু আহসান হাবীবের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত ২৩ অক্টোবর রাতে উপজেলার পাটিচড়া ইউনিয়নের মল্লিকপুর মাঠে এ ঘটনা ঘটে। পরে ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা।
সরেজমিনে জানা যায়, মল্লিকপুর মাঠের সাত বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছিলেন বেলাল ইসলাম ও আবু আহসান হাবীব। ধানগাছে সবেমাত্র ফুল আসতে শুরু করেছিল। তবে ২৩ অক্টোবর রাতে জমিতে আগাছানাশক প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ তাঁদের। পরদিন সকালে মাঠে গিয়ে ধানগাছ বিবর্ণ হয়ে পড়তে দেখে হতাশ হয়ে পড়েন দুই কৃষক।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে আব্দুর রাজ্জাক ও তার দুই ছেলে মেহেদী হাসান পলাশ এবং ইয়াছির আরাফাত শ্যামলের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এর জেরেই ধানখেতে আগাছানাশক প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আবু আহসান হাবীব বলেন, তাঁর চাচা আব্দুর রাজ্জাকের কাছ থেকে জমিটি কেনার পর কিছুদিন চাচা বর্গাচাষি হিসেবে সেখানে আবাদ করেন। পরে তাঁরা নিজেরা চাষাবাদ শুরু করলে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এর আগেও কয়েকবার তাঁদের ফসলের ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হাবীব বলেন, ‘গত ইরি-বোরো মৌসুমে পাকা ধান লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও কাদা-পানির সঙ্গে মিশিয়ে নষ্ট করা হয়েছিল। এবারও অনেক কষ্ট করে ধান চাষ করেছিলাম। ধানে সবেমাত্র ফুল আসছিল। এর মধ্যেই আগাছানাশক প্রয়োগ করে সব নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর চাচাতো ভাই মেহেদী হাসান পলাশ দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তাঁর বাবা আব্দুর রাজ্জাক ও ভাই ইয়াছির আরাফাত শ্যামলসহ কয়েকজনকে নিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয় বলেও দাবি করেন তিনি।
আরেক ভুক্তভোগী বেলাল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত মেহেদী হাসান পলাশ পাটিচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে মিলে ধানখেতে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। আগেও একই জমিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
বেলাল ইসলাম বলেন, ‘ধান নষ্ট হওয়ায় আমাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিনুর আলম বলেন, জমি কেনাবেচা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। এর জেরেই রাতের আঁধারে ধানখেতে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
পত্নীতলা উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কর্মকর্তা শরিফুল রহমান বলেন, ‘আমি সরেজমিনে জমি পরিদর্শন করেছি। প্রায় সাত বিঘা জমিতে আগাছানাশক প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে কৃষক বেলাল ইসলাম ও আবু আহসান হাবীবের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’
অভিযুক্ত মেহেদী হাসান পলাশের বক্তব্য জানতে তাঁর বাড়িতে গেলে সেটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। পরে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, থানায় অভিযোগ না নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, ‘এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে ঘটনাটি জেনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’