দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও শিল্পী রানী মোদক দায়ী থাকবেন’—এমন বিস্ফোরক পোস্ট, সঙ্গে ‘আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার’ ঘোষণা। ফেসবুকে দেওয়া জামালগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমানের এই দুটি পোস্ট ঘিরে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে পোস্ট দুটি। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে পোস্ট দেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন এই কর্মকর্তা। পরে তাঁকে প্রথমে সিলেটের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
ফেসবুকে নিজের মৃত্যুর জন্য ইউএনও শিল্পী রানী মোদককে দায়ী করে পোস্ট এবং প্রশাসন ক্যাডার থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমান এখন অনেকটাই সুস্থ। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে রোববার বিকেলে তিনি নিজ বাড়ি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউএনওর সঙ্গে এসিল্যান্ডের বিরোধের যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তার কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
এ ব্যাপারে জামালগঞ্জের ইউএনও শিল্পী রানী মোদক বলেন, ‘প্রথমে জানতে পারি এসিল্যান্ডের মোবাইল হ্যাক হয়েছে। পরে তার স্ত্রী জানান, মোবাইল হ্যাক হয়নি, পোস্টগুলো এসিল্যান্ডই করেছেন। পরে তার স্ত্রী সেগুলো মুছে ফেলেন।
তিনি বলেন, পোস্ট দেওয়ার ছয় মিনিট আগেও তিনি (এসিল্যান্ড) আমার বাসায় ছিলেন। উনি সুস্থ হয়ে ফিরে এলে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত আপনাদের জানিয়ে দেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আরিফুর রহমান চট্টগ্রামে পরিবারের সঙ্গে কিছুদিন বিশ্রাম নেবেন। এরপর কর্মস্থলে ফেরার কথা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনায় ইউএনও ও এসিল্যান্ডের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ থাকার মতো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কয়েক মিনিট আগেও আরিফুর রহমান পরিবারসহ ইউএনওর বাসায় একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মতিউর রহমান খান আরও জানান, আরিফুর রহমানের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। ঘটনার তিন দিন আগে জামালগঞ্জে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর পর মরদেহ দেখে তিনি আরও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তবে শুক্রবার রাতে ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা কর্মস্থলে ফেরার পর আরও বিস্তারিত জানা যাবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।
কেএম